সারাটি বছর অক্লান্ত পরিশ্রম আর একাগ্রতার মাঝে থাকতে থাকতে আলোকিত শিশুরা যেন হাঁপিয়ে উঠেছে। একটু পরিবর্তন হলে মন্দ হয় না। চল না সবাই একসাথে ঘুরে আসি। একঘেঁয়েমিকে কাটিয়ে উঠতে আর কাজের প্রতি শিশুর মনোযোগ বাড়াতে “আলোকিত শিশু চিকিত্সা ভিত্তিক স্কুল” অটিষ্টিক শিশু, চঞ্চল, সেন্সরি সমস্যা ও অন্যান্য বিশেষ শিশুদের জন্য আয়োজন করেছিল একটি শিক্ষা ভ্রমণ ও বাত্সরিক বনভোজন। আলোকিত শিশু এমন একটি স্কুল যেখানে একজন শিশুর সাথে সর্বক্ষণ একজন শিক্ষক কাজ করেন, সেই সাথে শিশু সকল চিকিত্সা যেমন অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি, ফিজিও থেরাপি, সেন্সরি থেরাপি, কগনিটিভ থেরাপিসহ সকল থেরাপি প্রতিদিন স্কুলেই পেয়ে থাকে। স্কুল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি বছর আলোকিত শিশু আয়োজন করে শিক্ষা ভ্রমণ ও বাত্সরিক বনভোজন। সকল আলোকিত শিশুরা মনের আনন্দে মা-বাবা, ভাইবোন ও সহপাঠীদের সাথে একসাথে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের লোক সংস্কৃতির জাদুঘর সোনারগাঁ দেখার জন্য। সারাদিন একসাথে তারা অনেক আনন্দ করে, খাওয়া-দাওয়া করে, খেলাধূলা করে, গান গায়। এরকম আউটিং প্রোগ্রাম বিশেষ শিশুদের জন্য তাদের সামাজিকতা বৃদ্ধির জন্য, কথার বিকাশ ও আচরণ ব্যবস্থাপনায় বাড়াতে অনেক প্রয়োজন হলেও যান্ত্রিক ঢাকা শহরে তা পাওয়া অনেক বিরল। আলোকিত শিশুদের বিকাশে সবাই আমরা তত্পর হব ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিব দয়ার মানসিকতায় নয়, চাই সহমর্মিতা। সোনারগাঁয়ের নৈসর্গিক দৃশ্য তাদেরকে বিমোহিত করে। এই বাত্সরিক ভ্রমণ তাদেরকে এই বত্সরের কর্ম উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করবে। আলোকিত শিশুরা শিক্ষা-দীক্ষায় ও কাজে হোক স্বাবলম্বী এই হোক আমাদের কামনা।
