সৈয়দপুরে প্রসারিত হচ্ছে কুটির শিল্প

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৫
উত্তরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সৈয়দপুরে গড়ে উঠেছে হরেকরকম কুটির শিল্পের ছোট-বড় কারখানা। সেখানে দিনে-রাতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। তাদের তৈরি পণ্য ট্রাঙ্ক, বালতি, মোমবাতি, আগরবাতি, শোকেস, ফাইল কেবিনেট, সাবান, গুল, জর্দা, প্লাষ্টিকের কৌটা প্রভৃতি দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো হচ্ছে। তাদের তৈরি ট্রাঙ্ক উন্নতমানের হওয়ায় সেনাবাহিনীর জোয়ানরা শান্তি মিশনে যোগ দিতে এটি সাথে করে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যাচ্ছেন। প্রায় দেড় লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত সৈয়দপুরে এসব কারখানা নানা কারণে গড়ে উঠেছে। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর পৌরসভায় অর্ধেকের বেশি রয়েছে অবাঙ্গালী। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, খুলনা, পার্বতীপুর ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে অবাঙ্গালীরা সৈয়দপুর শহরে বসবাসের আস্তানা গড়ে তোলেন। এদের মধ্যে অনেকে পাকিস্তান যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে আটকে পড়া পাকিস্তানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। প্রায় ৪৫/৫০ হাজার অবাঙ্গালী সৈয়দপুরের ২২টি ক্যাম্পে দীর্ঘ ৩৯ বছর ধরে অবস্থান করছে। এছাড়া দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে অবস্থানের কারণে বেশির ভাগ শ্রমিক- কর্মচারী ছিলেন অবাঙ্গালী। স্বাধীনতার পর অনেকে পাকিস্তান চলে যায়। বেশির ভাগ চাকরিচ্যুত হয়। ফলে বিরাট জনগোষ্ঠী সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়ে। সড়ক পথে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার যোগাযোগের পথ সৈয়দপুর। মিটার গেজ, ব্রড গেজ লাইন ছাড়াও বিমানবন্দর সৈয়দপুরের গুরুত্বকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে। সৈয়দপুর বিশিষ্ট ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে উঠায় প্রায় ২২টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, বহু নারী-পুরুষ ও শিশু শ্রমিক চুক্তিভিত্তিতে কাজ করছে। কতিপয় প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ব্যাংকের সাহায্য- সহযোগিতা নিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সমপ্রসারণ ঘটাচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সৈয়দপুর শহরটি গড়ে উঠেছে রেলওয়ের জমির উপর। ব্যাংক ঋণ নিতে হলে মালিকানাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দরকার হলেও ছোট শিল্পের মালিকরা তা দিতে পারছেন না। অথচ এসব প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা পেলে পরিধি বৃদ্ধি করে বেশি সংখ্যক শ্রমিকের কর্মের সংস্থান করতে পারে। এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে জানায়, ক্ষুদে প্রতিষ্ঠান সমূহের ব্যাংক ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় জামানত বা বন্ধক দেয়ার সংগতি না থাকায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সাহায্য করা সম্ভব হচ্ছে না। বিসিক কর্তৃপক্ষ সাধারণ তহবিলের মাধ্যমে যথেষ্ট সহযোগিতা করতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল মত পোষণ করেছেন।