বাহারি লেজ আছে ভীমরাজের

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২২:২৬
এরা এই অঞ্চলেরই পাখি। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ প্রিয়। বাঁশবন বেশি পছন্দের। আজকাল দেশের গাছ-গাছালির সংকটের কারণে এ পাখি এখন তেমন একটা নজরে পড়ে না। এদের লেজটা ভারি চমত্কার। দাঁড়িয়ে দেখার মতো। লেজের বর্ধিত অংশটুকু কেটে ফেললে যে কেউ ফিঙ্গে বলে ভুল করবেন। এরা ফিঙ্গে গোত্রের হলেও ওদের মতো অত হিংস্র নয়। অহেতুক ঝগড়াঝাটি করে না। গাছের ওপর বসেই নিচে কড়া নজর রাখে। পোকা-মাকড় চোখে পড়লেই ছোঁ মেরে শিকার ধরে ফেলে। ছোট ছোট দলে বিচরণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কণ্ঠস্বর ভারি কর্কশ। ডাকে ‘চেক-চেক-চিউক-ক্যাঁচ-চ্যাঁক’ সুরে। মন ভালো থাকলে মিষ্টি সুরে শিস দেয়। সহজে অন্য প্রজাতির পাখির স্বর হুবহু নকল করতে পাবার এক দুর্লভ গুণ আছে এদের। এ পাখির বাংলা নাম ভীমরাজ। ইংরেজিতে বলে গ্রেটার র্যাকেট টেইলড্ ড্রঙ্গো’। বৈজ্ঞানিক নাম Dicrurus paradiseus। উপগোত্রের নাম ‘ডিক্রুরিনি’। অনেকে একে রাজফিঙ্গে বা ধীরাজ নামেও ডাকে। ভীমরাজ লম্বায় প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার। তবে শুধু লেজের দৈর্ঘ্য ১৫ সেন্টিমিটার এবং লেজের বাইরের পালক ৪৮ সেন্টিমিটার। এদের গায়ের পালক নীলাভ কালো। ডানার তলায় সামান্য সাদা ছোপ। চোখের মণি লাল। মাথায় কালো ঝুঁটি। অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাখিদের মাথায় ঝুঁটি থাকে না। থাকে না লেজের ডগার বাড়তি পালকও। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব গজায়। ঠোঁট ও পা কালো। এ পাখির আকর্ষণই হচ্ছে লেজের ‘ছেঁড়া’ পালক দুইটি। লেজের প্রান্ত থেকে ফিতা আকৃতির দুইটি পালক অনেকখানি লম্বা হয়ে ঝুলে পড়েছে। পালকের মাথাটা পাতাকৃতির হয়ে মুচড়ে রয়েছে। ভীমরাজ পাখির প্রধান খাবার কীটপতঙ্গ। ফুলের মধুও এদের পছন্দ। উড়ন্ত উঁইপোকা উড়ে উড়ে শিকার করতে দেখা যায়। প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট। গাছের ডালে পেয়ালা আকৃতির বাসা বানায়। বাসার উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করে ঘাস, সরু কাঠি, মাকড়সার জাল। বাসা বানানো হলে বাইরের দিকে শ্যাওলা দিয়ে লেপ্টে দেয়। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৫-১৮ দিন।