প্র জ ন্ম মু খ

বিপণনে অগ্রপথিক

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৩, ১৯:৫১
এক নজরে এসএম মাসুদ রানা নাম :এসএম মাসুদ রানা ডাকনাম :মাসুদ জন্মতারিখ ও স্থান :১৪ সেপ্টেম্বর, যশোর মায়ের নাম :মিসেস সুফিয়া খাতুন বাবার নাম :আবু বকর শিকদার প্রথম স্কুল :শালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :বাবা-মা প্রিয় উক্তি :সকলের কথা শুনব, উত্তর দিব কম। প্রিয় পোশাকঃ স্যুট-প্যান্ট অবসর কাটে কীভাবেঃ পরিবারের সাথে সাফল্যের সঙ্গাঃ নিষ্ঠার সাথে কোনো কাজ করার পর সফল হলে যে আনন্দ, তার চেয়ে বড় সাফল্য আর নেই চিত্রা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে এক জনপদ, যশোরের নারিকেলবাড়িয়া। সেই বাজারে রোগী দেখেন এক ডাক্তার। দূর-দূরান্ত পর্যন্ত সুনাম তার। ব্যস্ত ডাক্তার বাড়ি ফিরতেই ছেলেমেয়েরা এসে ঘিরে ধরে। হাট থেকে আনা বাতাসা খেয়েই পড়তে বসে বাড়ির ছোট ছেলে। প্রত্যন্ত গ্রামে সুযোগ-সুবিধার লেশমাত্র নেই, তবু আগ্রহের অভাব নেই ছেলেটার মাঝে। শেখা চাই না-জানা কাজটা, জানা চাই অজানা সব কথা। মায়ের আদরের এই ছেলের নাম মাসুদ। এসএসসির গণ্ডি পেরিয়ে এলেন যশোর শহরে। এমএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় তীব্র ইচ্ছে ছেলেটার মার্কেটিংয়ে পড়বে। প্রতিযোগিতায় টিকে গেলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের স্নাতক স্নাতকোত্তর ডিগ্রি তখন সেই ছেলেটার কাছে। এই ছিল শুরু! আজ তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিডি গ্রুপের মার্কেটিংয়ের প্রধান। ছোটবেলায় ভাই-বোনদের সাথে বাতাসা ভাগ করে নিয়ে যে আপত্তি করেননি, সেই মাসুদ রানাই এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে দিয়েছেন তার মার্কেটিং ভাবনা। বিডি গ্রুপের পণ্য ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপ আমেরিকার নানা দেশে মানে গুণে অনন্যতা বজায় রেখেই আজকের এই অবস্থানে প্রতিষ্ঠানটি। পেশা হিসেবে মার্কেটিং কেমন, সেটা আর বলার অবকাশ নেই বলে মনে করেন মাসুদ রানা। হালের জনপ্রিয় বিষয়গুলোর মাঝেই মার্কেটিং রয়েছে। খেয়াল রাখা দরকার, কতটা মানসম্পন্ন শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত করতে পারলাম। নতুন প্রজন্মের এই দিকগুলোতে অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। মাসুদ জানান, তাদের সময় কিন্তু এত এত সুযোগ সুবিধা ছিল না। এখন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। এর শুভ-অশুভ দুই দিকই রয়েছে। অফুরন্ত জানা আর নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে। আর শাপে বর হিসেবে বলতে হয় দিকভ্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গে। সার্বিক বিষয়ে জ্ঞান থাকায় তরুণরা অল্পতেই অনেকদূর এগিয়ে গেছে মনে করেন তিনি। এর সাথে যোগ করে মাসুদ বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস থাকা দরকার, সেই সাথে নিজের অবস্থানটাও যাচাই করা জরুরি। একজন যেখানেই কাজ করুক না কেন, মনপ্রাণ দিয়েই এটা করতে হবে। ভেবে দেখা দরকার, একটা সংস্থা আমার উপর আস্থা রাখছে, কেন তার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নয়? কাজের প্রতি ভালোবাসাটা সবার আগে জরুরি।’ এই বিষয়টাই বারবার জোর দিয়ে বললেন প্রজন্মের এই মার্কেটিং ব্যক্তিত্ব। মাসুদ রানা শুধু কর্পোরেট দুনিয়াতেই নয়, পরিবারের সবার ভালোবাসা পেয়েছেন সব সময়। বাবার চিকিত্সার সুনামের কারণে এখনও যশোরের সেই গ্রামে তাদেরকে আলাদা সমাদর করেন সবাই। অনেক প্রভাব প্রতিপত্তির সাথেও গ্রামবাসীদের নিঃস্বার্থ এই দোয়া আর ভালোবাসার কোনো তুলনা চলে না। আর তাদের মায়ের কথা না বললেই নয়, সাদাসিধে এই মানুষটা জীবনের পুরোটা সময় পরিবারের মানুষদের সেবায় কাটিয়ে দিলেন। রত্নগর্ভা মায়ের অন্য সন্তানেরাও সমাজের উঁচুস্তরে আসীন আজ। মাসুদ রানার স্ত্রী আইভি মাসুদ বাংলাদেশ বেতার আর টেলিভিশনের নিবন্ধিত নাট্যকার, লিখেছেন অনেক নাটক। পথচলায় তার ছায়া না থাকলে এতটা পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হতো না বলে জানালেন মাসুদ! তাদের আদরের একমাত্র সন্তান মাহীর মাসুদ আনান ক্লাস টুতে পড়ছে, ধানমন্ডির একটা স্কুলে। আব্বুকে কাজের চাপে খুব কাছে না পেলেও যে সময়টা পায়, নিজেকে জাহির করে নিতে কম যায় না। তার দুরন্তপনায় অনিন্দ্য সুন্দর এক আগামীর স্বপ্ন দেখেন মাসুদ। সেই দিনটাতে আমাদের দেশ নিয়ে কেউ খারাপ কিছু ভাবতে পারবে না, সেই সময়টাতে আমরা কেবল সমৃদ্ধির কথা ভাবব। মাসুদ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, যার যার জায়গা থেকে একটু সচেতন হলেই বদলে দেওয়া সম্ভব অনেক কিছু। তিনি তার জায়গায় থেকে স্বপ্নময় সেই বাংলাদেশ গড়ায় অংশীদার হতে চান। মেধায় মননে আর যোগ্যতায় সেই সাথে অবশ্যই সততায় এগিয়ে যাবেন তিনি অনেক দূর, এই প্রজন্মের শুভকামনা রয়েছে তার সাথে সার্বক্ষণিক।