বস্তুগত নিদর্শনের ভিত্তিতে অতীত পুনঃনির্মাণ করার বিজ্ঞানকেই প্রত্নতত্ত্ব বলে চিহ্নিত করা হয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী দেখা যায়। যারা এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা ও পরবর্তীতে কাজ করতে পছন্দ করেন। এমনই কিছু তরুণ-তরুণী যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অতীতের নানা অজানা ব্যাপার উঠে আসছে আমাদের সামনে, তাদেরই কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজনটি লিখেছেন
প্রাঞ্জল সেলিম
জে না হে র ল্ড
২০০৮ সালে প্রথম কমিউনিটি হেরিটেজের মাধ্যমে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। নর্থ উইক শহরের একটি কমিউনিটি এটি। স্কুলের একটি প্রজেক্টের জন্য একবার অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন তিনি। সেখানকার এক রেইন ফরেস্ট নিয়ে কাজ করেন তিনি। তার প্রজেক্টটি ছিল রেইন ফরেস্টের আদি নিয়ে গবেষণা করে রিপোর্ট দেওয়ার। প্রজেক্টে তিনি সফল হয়েছিলেন। মজার মজার তথ্য বের করে চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে। ২০১০ সালে হ্যারিটেজ প্রজেক্টের ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া শুরু করেন। পাস করার পরও তিনি সেই কমিউনিটির সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ফরেস্ট নিয়েই তার গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে চান। তিনি এই কাজকে চ্যালেঞ্জ মনে করে চালিয়ে যাচ্ছেন।
ল বি মা র্স
সেচ্ছা সেবক হিসেবে কাজ করছিলেন ইউনাইটেড কিংডমের একটি ফাউন্ডেশনের সাথে। সেখান থেকেই তার ক্যারিয়ারের শুরু বলা যায়। প্রতিভাবান এই তরুণের সমস্ত আগ্রহ ছিল প্রত্নতত্ত্ব নিয়েই। লন্ডনের একটি ক্যাম্পে তাকে ভলেন্টিয়ারি কাজের জন্য ডাকা হয়। তিনি তাদের সাথে পাড়ি জমান স্কটল্যান্ডে। সেখানকার একটি দূর্গের উপর রিসার্চের কাজ চলছিল। ডার্টমোর এই দূর্গের উপর রিসার্চের জন্য তিনি ১০০০ ইউএস ডলার পুরস্কার পেয়েছিলেন। বর্তমানের ইউকে-এর কয়েকজন বিখ্যাত আর্কিওলজিস্টের তালিকা করা হলে তার নামটিও রাখতে হবে সেখানে।
ড. রু থ ই য় ং
ড. রুথ প্রথম আলোচনায় উঠে আসেন ২০০০ সালে। তিনি নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টেইনার থেকে প্রত্নতত্ত্বের উপর তার পিএইচডি শেষ করেন। বর্তমানে তিনি সিনিয়র লেকচারার হিসেবে আমেরিকার ব্রেডফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে কাজ করছেন। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি তার ইচ্ছা ছিল প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করার। তার এত আগ্রহ দেখে বাবা-মা’ও রাজি হয়ে যান। তারা তাকে ভর্তি করে দেন ফিলাডেলফিয়ার একটি নামকরা স্কুলে। পড়ানোর পাশাপাশি তিনি ওয়াকেস্ট শায়ারের ইয়ং আর্কিওলজিস্ট ক্লাবের সাথেও যুক্ত। তার টিমের আওতায় প্রতি বছরই ৫ জন করে সুযোগ পান তার সাথে কাজ করার জন্য। তরুণ এই প্রত্নতত্ত্ববিদ মিশরের কিছু পুরাতন সভ্যতা নিয়ে কাজ করছেন।
সা মি য়া লি
মার্কিন এই তরুণী বেশ ভালোই নাম করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদ হিসেবে। অন্য সবার মতো খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয়নি ক্যারিয়ারটি সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। কারণ স্কুল জীবন থেকেই তার এই বিষয় নিয়ে অগাধ জ্ঞান। স্কুল শেষ করে বাসায় এসেই বসে পড়তেন কম্পিউটার নিয়ে। তার বিশদ জ্ঞানের কথা সবাই জানত। সেই সুবাদেই বিভিন্ন প্রোগ্রামে দাওয়াত পেতেন তিনি। অংশ নিতেন বিভিন্ন ওয়ার্কশপে। সেখানে তাদের সাথে কাজ করতে করতেই হাতেখড়ি হয় তার। এরপর একবার তিনি একটি দলের সাথে একটা এক্সপেডিশনে অংশ নিয়েছিলেন। এই অভিযান দিয়েই তার ক্যারিয়ারের শুরু হয়। বর্তমানে তার তত্ত্বাবধানে প্রায় সাতটির মতো অভিযান চলছে।
ভ্যা লে রি য়া রে লি
খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজের সাথে জড়িত তিনি। তার মা ছিলেন একটি স্কুলের প্রভাষক। তার বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর, সেসময় থেকে তিনি তার মায়ের কাছ থেকে কাজ শেখা শুরু করেন। মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে তিনি সামনে এগিয়ে যান। তবে কিছু বেসিক কোর্স বাদে তার তেমন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তিনি প্রথমে সেই স্কুলেরই একটি ক্লাবে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নিজের মতো করে কাজ করা শুরু করেন। খুব অল্পসময়ের মধ্যেই তিনি বেশ ভালো নাম কামিয়ে ফেলেন। বিভিন্ন পুরাকীর্তি নিয়ে গবেষণা করতে পছন্দ করেন তিনি। এ বিষয় নিয়ে টিভিতেও বেশ কয়েকবার ইন্টারভিউও দিয়েছেন তিনি।
