বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৩, ২১:২৩
উদার গণতন্ত্রই হলো একটি দেশের উন্নতির চাবিকাঠি বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আর এই দেশে রয়েছে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল। এই গণতান্ত্রিক দেশের উন্নতির মূল হাতিয়ার হচ্ছে এই দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো পালাক্রমে ক্ষমতায় আসে। তাই ক্ষমতাশীল দলগুলোর উপরই নির্ভর করে দেশের উন্নতি-অবনতি। কিন্তু আমাদের দেশের ক্ষমতাশীল দলগুলো ক্ষমতায় আসে জনগণের দ্বারা। আর ক্ষমতায় একবার উন্নীত হবার পরে আর জনগণের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা না করে তাদের নিজ ইচ্ছানুযায়ী দেশ পরিচালনা করে। এতে দেশের সর্বসাধারণের শান্তি বিনষ্ট হয়। আমরা যদি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের দিকে তাকাই তাহলেই দেখতে পাব আমাদের দেশের ভবিষ্যত্ সম্ভাবনা। আমরা উদার গণতন্ত্র বলতে যেটাকে বুঝি তা বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নেই বললেই চলে। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে লক্ষণীয় বিষয় হল তারা তাদের ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ইত্যাদিকে প্রাধান্য দিয়ে সার্বজনীন স্বার্থ কায়েম থেকে বিরত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ভাইদের কথা চিন্তা করি, তারা দেশের জন্য তাদের জীবন দিয়েছেন। কিন্তু আমরা আজ আমাদের দেশের কথা বিবেচনা না করে আমাদের রাজনৈতিক দলের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত হচ্ছি। আজ আমরা দলগত কারণে অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্যাতন করছি। এটাতো একটি স্বাধীন দেশের উদার গণতন্ত্র নয়। পরিশেষে বলা যায় যে, কোন দেশই উদার গণতন্ত্র ছাড়া উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারে না। এ লক্ষ্যে দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য সরকারি দল, বিরোধী দল নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলকে এককভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সাহিন কাজী সরকারি তিতুমীর কলেজ অনার্স প্রথম বর্ষ মহাখালী, ঢাকা। সকলকে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চায় উত্তীর্ণ হতে হবে বাংলাদেশের রাজনীতির অবস্থা করুণ। সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চায় প্রয়োজন উদার মানসিকতা। স্বাধীনতার এতটা বছর পরও আমরা গণতন্ত্রের সঠিক মানদণ্ড দাঁড় করাতে পারিনি। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলসহ বাকি দলগুলোও ক্রমেই হিংস্র হয়ে উঠছে। কেউ কাউকে ন্যূনতম ছাড় দিতেও নারাজ। নির্বাচনী জটিলতা, পাল্টাপাল্টি হিংসাত্মক বক্তব্য, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ— এ সবকিছু গিয়ে উঠছে রাজপথে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি হচ্ছে আরো ঘোলাটে। প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ মানুষের। জাতি আজ আশংকাগ্রস্ত ভবিষ্যত্ গণতন্ত্রের গতিপথ নিয়ে। খুন, ধর্ষণ, বর্ণবিদ্বেষ, হিংসা-বিদ্বেষ— এ সবকিছুই আমাদের গণতন্ত্রকে কুরে-কুরে খাচ্ছে। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে রাজনীতিবিদসহ সকলকে উদার মনোভাব নিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে। একে অপরের প্রতি হতে হবে শ্রদ্ধাশীল। ভালো কাজে এগিয়ে আসতে হবে একযোগে। খারাপ কাজের জন্য করতে হবে গঠনমূলক সমালোচনা। আশাকরি প্রধান দু’দলসহ সবাই সংযমী হবেন ও আলোচনায় বসে সকল সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান বের করবেন। নাজমুল হক স্টাইল হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি দ্বিতীয় বর্ষ (বি.বি.এ. সম্মান) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ। বড় দুই দল এক না হলে দেশে উদার গণতন্ত্র আসবে না আমাদের দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে তারা আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে উঠে-পড়ে লেগেছে। যেমন পরীক্ষায় পাস করার জন্য আগেরদিনের ছেলে-মেয়েরা নকল করতো ঠিক সেই রকম। পরীক্ষায় নকল যেমন ভাল নয় এবং এটি নিন্দনীয় কাজ তেমনি বর্তমান দুই দলের কার্যক্রমও শুভ নয়। পরীক্ষায় পাসের জন্য নকল করার চিন্তা বাদ দিয়ে অধ্যয়নে মনোযোগ দেয়াই যেমন বুদ্ধিমানের কাজ, ঠিক তেমনিভাবে দেশের প্রধান দু’টি দলের বর্তমানের হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বাদ দিয়ে জনগণের মন জয় করা দরকার। বহিষ্কার করে তাদের শাস্তি দাবি করুন। ইনশাল্লাহ বাংলার জনগণকে আপনাদের পাশে পাবেন শতভাগ এবং জাতীয় নির্বাচনে জয় আপনার নিশ্চিত এবং তা ১০০%। অন্যথায় জামায়াত-শিবিরের অপকর্মের গুণে গুণান্বিত হয়ে আপনার দলের ভরাডুবি এটা নিশ্চিত থাকুন। কারণ বাংলার জনগণ এখন আর আগের মতো বোকা নন, মানুষ এখন দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসানীতি ইত্যাদি যত প্রকার নীতি আছে তা আপনাদের চেয়ে ভালোই বুঝে। শরীফুল ইসলাম গণিত বিভাগ সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি আজ হুমকির মুখে পড়েছে। উদার গণতন্ত্রের আশা করা দুরূহ বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যে সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে তা স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে আর কখনো হয়নি। নিভে যায়নি একসাথে এতোগুলো তাজা প্রাণ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ আর নিজেদের জন্য ফায়দা লুটতে রাজনৈতিক দলগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিরোধী জোট চাচ্ছে আন্দোলন-সংগ্রাম করে শেষ সময়ে সরকারের ভিত নড়বড়ে করে দিতে। অন্যদিকে সরকার মিছিলে পাখি মারার মত মানুষ হত্যার উত্সবে মেতে উঠেছে। তারপরও নীরব আছে দেশের তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এ অবস্থায় দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে দেশের মানুষের নিরাপত্তা। শহর পেরিয়ে গ্রামের মানুষের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। একমাত্র রাজনীতির কারণে মানুষ নিরাপত্তা বোধ করছে না। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চলে এসেছে নৈরাজ্য। বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরতে পারবে কিনা তাও জানতে পারছে না। সর্বত্র উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠা এই কারণে কখন যে এর শেষ কোথায়। বর্তমানে বাংলাদেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিরাজ করছে আরো সংকটময় অবস্থা। সরকার ও বিরোধীদল এতটাই মারমুখী যে, যে কোন সময় আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যুদ্ধাপরাধ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে দ্রুত উত্তরণ ঘটাতে না পারলে পুনরায় তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে। আর সেটা হলে রাজনীতিবিদরা দুঃস্বপ্নময় দিনে পতিত হবে। এজন্য সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে। নাজমুল হক পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা-ইন জার্নালিজম শেষবর্ষ, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।