মশার অব্যাহত দংশনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজশাহী মহানগরীর প্রায় ১০ লাখ মানুষ। সন্ধ্যায় ঝাঁকে ঝাঁকে মশার দল নালা-নর্দমা ও ড্রেন থেকে ছুটে আসছে । দিনেও মশার অত্যাচার কম নয়। মশার দংশন থেকে বাঁচতে মানুষ দিনের বেলায়ও বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মশা মারার সেপ্র ছিটিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে কাজ করছেন। যারা সেপ্র ও কয়েলের ধোঁয়ার গন্ধ সহ্য করতে পারেন না, তাদের হাতে এখন মশা মারার বিশেষ ইলেকট্রিক র্যাকেট।
জানা গেছে, সর্বত্র মশার অত্যাচার বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বিভিন্ন ধরনের মশা মারার সেপ্র, কয়েলের কেনাবেচা বেড়েছে। এছাড়া বিশেষ র্যাকেট কিনতে ইলেকট্রনিক্সের দোকানে মানুষের ভিড় বেড়ে গেছে। এই সুযোগে দোকানীরা সরবরাহে ঘাটতির অজুহাত তুলে সেপ্র, কয়ের ও বিশেষ র্যাকেটের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিত্সকরা জানান, মশার দংশনে চুলকানি, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগ ভাসমান ও শ্রমজীবী মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই রোগাক্রান্তরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিত্সা নিচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।
মহানগরীতে মশার অত্যাচার হঠাত্ বেড়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। গত ৯ মার্চ থেকে আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে রাসিকের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ভোর সাড়ে ৬টা এবং বিকাল ৪টায় প্রতিদিন ৫টি করে ওয়ার্ড এলাকায় চক্রাকারে ফগার মেশিনে মশা মারার ওষুধ সেপ্র করা হচ্ছে।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার ১, ২, ৩, ৪, ৫ নং ওয়ার্ডে; আগামীকাল মঙ্গলবার ২০, ২১, ২৩, ২৪, ২৭ নং ওয়ার্ডে; বুধবার ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ নং ওয়ার্ডে, বৃহস্পতিবার ২৫, ২৬, ২৮, ২৯, ৩০ নং ওয়ার্ডে এবং শুক্রবার সেনানিবাস, র্যাব ক্যাম্প, সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলো, ডিজিএফআই, এনএসআই, বিজিবি ক্যাম্প, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) ও হাসপাতাল, হেলেনাবাদ কলোনী, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহী কলেজ, নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, কেন্দ্রীয় কারাগার, পুলিশ লাইনস্, সাহেব বাজার, উপ-শহর আবাসিক এলাকা, পদ্মা আবাসিক এলাকা, মহিলা কলেজ ও অভিযোগপ্রাপ্ত অন্যান্য জায়গায় মশার ওষুধ সেপ্র করবে রাসিক-এর কর্মীরা।
হানিফের কোচে ডাকাতি
ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী কোচে শনিবার রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে ২৫টি মোবাইল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যাত্রীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর শহর অতিক্রমের পর যাত্রীবেশী নয় ডাকাত অস্ত্রের মুখে চালককে গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর তারা যাত্রীদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতির ঘটনায় হানিফ পরিবহনের স্টাফদের যোগসাজস থাকতে পারে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। রাত ১১টার দিকে কোচটি রাজশাহীর শিরোইল পুরানো বাসটার্মিনালে পৌঁছালে যাত্রীরা কোচ থেকে নেমে বিক্ষোভ করেন। কোচের যাত্রী আশরাফুল ইসলামসহ অন্যরা সাংবাদিকদের বলেন, হানিফ এন্টারপ্রাইজের কোচে প্রায়ই একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এমন একটি ডাকাতির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা রাজশাহীতে হানিফের টিকিট কাউন্টার ভাংচুর করে।
