প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের যে চেতনা আর বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে এর মধ্যে সামঞ্জস্য এনেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের সংগ্রাম এখনও শেষ হয়ে যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদের আরো অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের ওপর আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এ সেমিনারের আয়োজন করে। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের তাত্পর্য তুলে ধরে বলেন, একাত্তরের ৭ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত গত ৪২ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি যে আবেগ ধরে রেখেছে বিশ্বের ইতিহাসে সত্যিই তা বিরল। মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণেই বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েতে উদ্বুদ্ধ করে। বাঙালিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উদ্দীপ্ত ও দীক্ষিত করে। এমন ঘটনাও বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আর এ জন্যই এটি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণ। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। তাই ৭ই মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে বাঙালি জাতিকে অগ্নস্ফুিলিঙ্গের ন্যায় উজ্জীবিত করে রাখবে। আজকের তরুণ প্রজন্মের প্রেরণাও একই সূত্রে গাঁথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ব্রিটেনের জনগণকে নািস জার্মানির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিলের ঐতিহাসিক বেতার ভাষণটির সঙ্গে মিল খুঁজে পান। কিন্তু এ দুটিই ছিল লিখিত বক্তৃতা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে কোনো লিখিত বক্তৃতা নয়, আত্মোপলব্ধি থেকে তিনি এই জয়গান শুনিয়েছেন। এটা ছিল তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্বপ্ন, সাধনা, সংগ্রাম ও ত্যাগের ফসল। গত ৪২ বছর ধরেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি আবেগ ধরে রেখে, যা সারাবিশ্বেই নজিরবিহীন।
অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন মূলপ্রবন্ধে বলেন, মুখে জয়বাংলা আর হূদয়ে বঙ্গবন্ধু-একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বাঙালির এ দুটিই ছিল মূলঅস্ত্র। মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনায় আজ দেশের তরুণ প্রজন্মরা জেগে উঠেছে। নতুন প্রজন্মের এই মহাপুনর্জাগরণে যোগ দিয়েছেন দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাসহ সবশ্রেণী-পেশার মানুষ। তারুণ্যের এই মহাউত্থান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে সাহস যুগিয়ে বলছে, ভয় পাবার কিছু নেই। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের সাহসী জাগরণ ও উচ্চারণে দেশের কিছু সুশীল সমাজের মুখোশও খুলে দিয়েছে। তারুণ্যের এই গণজাগরণকে কেউ রুখতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সিংহদুয়ারও আজ খুলে গেছে।
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন বলেন, ২৬ মার্চ ছিল ফরমাল ঘোষণা, আসলে ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণটিই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। জিয়া-খালেদা-নিজামীদের আমলে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও জয়বাংলা শ্লোগান ছিল নিষিদ্ধ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা পাকিস্তান জিন্দাবাদের আদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদের শ্লোগান আমদানি করে। দীর্ঘদিন পরে হলেও শাহবাগের তারুণ্যের মহাজাগরণ আবার ফিরিয়ে এনেছে ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানকে। জয়বাংলা শ্লোগান দিয়েই এবার তরুণ প্রজন্মরা একাত্তরের মতোই আবারও পরাজিত শত্রুদের পরাজিত করবে। তিনি বলেন, একাত্তরে পাক হানাদারদের দোসর ছিল জামায়াত। আজ খালেদা জিয়ার দোসর হয়েছে সেই জামায়াতে ইসলামী। জিন্দাবাদধারীদের প্রতিহত করতে হলে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
