চারটি প্রকল্পে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার (জাইকার) সঙ্গে আট হাজার ২৩৪ কোটি টাকার ঋণ চুক্তি করেছে সরকার। এ ঋণের অর্থে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার লেন বিশিষ্ট তিনটি সেতু নির্মাণ করা হবে। গতকাল রবিবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব আবুল কালাম আজাদ ও জাইকার স্থানীয় প্রতিনিধি ড. তাকাও টোডা এই ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সিরো সাদোসীমা ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই লেন বিশিষ্ট কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতুর পাশে চার লেন বিশিষ্ট পৃথক তিনটি সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান সেতু তিনটি সংস্কার করা হবে। ৮ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে একটি প্রকল্পের আওতায় এ কাজ করবে সড়ক বিভাগ। জাপান সরকার এতে ৬ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা ঋণ দিবে। জাইকার ঋণের অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, কর্ণফুলী ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়, নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প এবং নবায়ণযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন প্রকল্প।
চুক্তির আওতায় জাপান সরকার নামমাত্র সুদে (দশমিক শূন্য ১ শতাংশ) ১০৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। ঋণের রেয়াতকাল ধরা হয়েছে ১০ বছর। ৪০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
চুক্তি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর পরও সাম্প্রতিক কয়েকবছরে দেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়ে গেছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে আমাদের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে। বর্তমানে জিডিপি’র ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ বিনিয়োগ করা হলেও এ হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
অন্য প্রকল্পের মধ্যে, চট্টগ্রামে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে কর্ণফুলী ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়ন হবে। এ প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে জাইকা। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জাপানের ১ হাজার ২২২ কোটি ইয়েন সহায়তা চালু রয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্য দূর করতে নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ঢাকা ও রংপুর বিভাগের ১১৮টি উপজেলা ও ১৮টি পৌরসভায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। ২ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে নেয়া এ প্রকল্পে জাপান সরকার ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা সহায়তা দিবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়নের প্রকল্পে ৯৭৫ কোটি অপর একটি চুক্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে সোলার হোম সিস্টেম, সোলার পাম্প ব্যবস্থা স্থাপন, মিনি-গ্রিড ও বায়োগ্যাস ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে।
