সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় পানির অভাবে বোরো ধানের জমিগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। নষ্ট হওয়ার পথে কৃষকের চাষকৃত হাজার হাজার হেক্টের জমির ধান। সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মূলত অনাবৃষ্টি ও সেচ সংকটের কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বোরো মৌসুমের আবাদকৃত ধান গোলায় তুলতে পারবেন—এমন আশায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বোরো চাষিরা রোপণ করেন ধানের চারা। আশানুরূপ ফসল ফলাতে রাত-দিন মাঠে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাদের। চারা রোপণের পর সেগুলো থেকে আগাছা নিধন, সার প্রয়োগ, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে ধানের চারা বাঁচাতে কীটনাশক ব্যবহার করেছেন তারা। কিন্তু এখন কৃষকদের প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে অনাবৃষ্টি।
ফাল্গুন মাসের আজ ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্বনাথের কৃষকরা পাননি এক পশলা বৃষ্টির দেখা। এতে কৃষকদের সোনার ধানী জমিগুলো পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে পরিণত হয়েছে বিরাণ ভূমিতে। পানির অভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন উপজেলার কৃষককূল। কবে মিলবে এক পশলা বৃষ্টির দেখা। এই চিন্তায় এখন দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। কৃষকরা জানান, আমাদের পূর্ব-পুরুষরা এতদিন বোরো চাষের জন্য হাওরের মধ্যে থাকা ছোট ছোট পুকুর কিংবা হাওরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে জমিতে সেচ দিতেন। কিন্তু এখন পুকুর ও খালগুলো ভরাট হওয়ার পাশাপাশি অবৈধ দখল হয়ে যাওয়াতে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। আবার উপজেলার অনেক জায়গায় ডিপটিউবওয়েল ও বিদ্যুতের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
উপজেলার গোয়াহরি গ্রামের গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, কৃষিকে বাঁচাতে হলে দেশের সব ক’টি নদী ও খালের মত বিশ্বনাথের নদী ও খালগুলোকে পুনঃখনন করতে হবে। তা না হলে দেশের কৃষিখাত ধ্বংস হয়ে যাবে। কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, প্রতি বছর এমন সময় বৃষ্টি হতো। কিন্তু এবছর বৃষ্টির দেখা না পাওয়ার কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার পথে। বৃষ্টি না হলে কিংবা সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি না দিতে পারলে ধানের ভাল ফলন আশা করা যাবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খায়রুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, বৃষ্টি না হলে ধানে চিটা হবে। এখনোও ক্ষতি হয়নি, তবে ৪/৫ দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা করছেন তিনি।
