ভাংচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদসহ আট নেতা। ছয়টি মামলায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং ৫টি মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চার সপ্তাহের জামিন লাভ করেছেন। জামিন পাওয়া অন্য ছয় নেতা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনের পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিহিংসার মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। শনিবার রাতে পল্টন থানায় আমার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেইদিন আমি কোন সভা সমিতিতে যাইনি। তারপরও সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে এ মামলা করেছে। মামলা যে মিথ্যা ও মিথ্যাহীন এই ঘটনায় তা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, শুধু মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া বা সভা-সমিতিতে বক্তব্য দেয়ার কারণে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের সত্যিকারের স্বৈরাচারী মনোভাব ফুটে উঠেছে। মামলা দিয়ে বিএনপিকে দমন করা যাবে না। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।
গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে গত ৩ ও ৭ মার্চ রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানায় এসব মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া শনিবার রাতে মওদুদ আহমদসহ ৪৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা হয় পল্টন থানায়। এর মধ্যে মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান ও বরকতউল্লাহ বুলু ছয় মামলায় এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ রায়, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পাঁচ মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন দাখিল করেন। গতকাল জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি শুনানি করেন। জামিনের বিরোধিতা করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মমতাজউদ্দিন ফকির। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এসময় আদালতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, একেএম এহসানুর রহমান, এডভোকেট সগীর হোসেন লিয়ন প্রমুখ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
