উদার গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল, যদি জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হয়
আমার কাছে একটু অবাক করার বিষয় হলো তাদের সাম্প্রদায়িক হামলা। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তাদের এত আক্রোশ কেন? আক্রোশ তো থাকার কথা জামায়াত-শিবিরের উপর হিন্দুু সম্প্রদায়ের। এই জামায়াত-শিবিরের গুরুদেবরাই কিন্তু হিন্দু ধর্মের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছিল ১৯৭১ সালে। সবকিছু ভুলে সবাই যখন অসাম্প্রদায়িক চিন্তা- চেতনা নিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে একতাবদ্ধ তখনই জামায়াত-শিবির কিছু ঘৃণ্য রাজাকারকে রক্ষার জন্য যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে, একটা স্বাধীন দেশে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উদার গণতন্ত্রের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম সেই ১৯৭১ সালে যুদ্ধ জয়ের পরেই। কিন্তু এজ পর্যন্ত আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পারিনি। তার পেছনে অবশ্য অনেক কারণ রয়েছে। যেমন-বঙ্গবন্ধু হত্যা, জিয়াউর রহমানের রাজাকারপ্রীতি, এরশাদের স্বৈরশাসন ইত্যাদি। আর বর্তমানে এর সাথে যোগ হয়েছে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যারা ইসলামের নামে উগ্রপন্থি মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করে। আর উগ্রপন্থিদের দিয়ে কোন উদার কাজ হয় না এটা আমরা সকলেই জানি। সামনে নতুন প্রজন্ম রাজনীতির হাল ধরবে। আমরা যদি তাদের হাতে জামায়াত-শিবিরমুক্ত একটা বাংলাদেশ তুলে দিতে পারি তাহলে তারা অতি সহজেই বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে।
সৌরভ দাস
শ্রেণি-দ্বাদশ (বিজ্ঞান),
সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট
পরিবর্তনের সময়
এসেছে
আমাদের সবারই গণতন্ত্র সম্পর্কে কম- বেশি জানা আছে। গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো উদার গণতন্ত্র (Liberal Democracy)। উদার গণতান্ত্রিক দেশ অন্যের সাথে কোন অবস্থাতেই যুদ্ধ করবে না এবং সকল প্রকার মানবিক অধিকার (Human Rights) নিশ্চিত করবে। Human Rights দুই ধরনের:১। Economic, Social and Cultural Rights. ২। Civil and political Rights. বাংলাদেশে দুই ধরনের অধিকারই আছে। তবে কোনটিই পরিপূর্ণ নেই। আমাদের সমাজে সবাই সমানাধিকার পায় না। আর রাজনৈতিক অবস্থা তো খুবই আশংকাজনক। সেই অর্থে আমাদের দেশে উদার গণতন্ত্রের চর্চা হয় না। বিরোধী দল কথা বলার জন্য সংসদে আসে না। আসলেও কথা বলার জন্য যথেষ্ট অনুকূল পরিবেশ পায় না। দিন দিন রাজনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। সামান্য অজুহাতে এক দলের সাথে অন্য দলের সংঘাত হয়। আর এ সংঘাতে সাধারণ জনগণ কষ্ট পায়। এমনকি মারাও যায়। যার উদাহরণ বিশ্বজিত্ দাস। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক। একে অন্যের সাথে কোন প্রকার সমঝোতায় আসতে পারছে না। উন্নত দেশে কে বিরোধী আর কে সরকারি দলের তা বুঝাই যায় না। সবাই দেশের কাজে সমানভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। আমাদের দেশে যে দলই নির্বাচনে হারে তারা বলবে নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে। একে অন্যকে নানা প্রকার অপবাদ দেয়। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে যে নির্বাচনে পরাজিত হয় সে বিজয়ী দলকে স্বাগত জানায় এবং দশের জন্য একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সরকারি দলও বিরোধী দলকে সম্মান করে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে বিরোধীদলীয় নেতাদের নিয়োগ দেন। এ থেকেই বুঝা যায় তাদের গণতন্ত্র এবং আমাদের গণতন্ত্রের মধ্যে কতটা পার্থক্য। এ ধরনের গণতন্ত্র বিরাজ করলে আমাদের দেশকে কিছুই দেয়ার থাকবে না। তাই দেশ ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আমাদের উদার গণতন্ত্রের চর্চা করা উচিত। কারণ বর্তমান প্রজন্ম অনেক সচেতন হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারায় পরিবর্তন না আসলে তাদের কাছে আমাদের জবাব দেয়ার কিছুই থাকবে না। আমরা পরিবর্তনের আশায় আছি।
মো. আবদুর রহমান
২য় বর্ষ,
শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
লোভ-লালসা বর্জন এবং সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করুন, তবেই বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি সম্ভব
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের হূদয় ও ধ্যান- ধারণা সম্পূর্ণ আলাদা ও অন্যরকম। এদের মাঝে যতটা ভালোবাসার হূদয় এবং উদারতা আছে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তাতে বিরল। শুধুমাত্র এ দেশের মানুষগুলোর মাঝে সুশিক্ষা-স্বশিক্ষা আহরণ ও সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে এদের মাঝে লোভ-লালসা এবং প্রতিহিংসা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করে যে, নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে তারা এমন অন্ধ ও উন্মাদ হয়ে যায়। সেই মুহূর্তে তারা যে কোন কাজ করে ফেলে, যা তাদের করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাবিয়ে তোলে না। কিন্তু যদি এই সমস্ত মানুষের বসন্তের ন্যায় হূদয়ে সুশিক্ষা-স্বশিক্ষা ও সঠিক ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করে দেয়া যায় তাহলে এই সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির লীলাভূমি বাংলাদেশে শুধুমাত্র উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিই নয়, এমন প্রশান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে যা দেখে অন্যান্য দেশের লোক আল্লাহতায়ালার কাছে এভাবে প্রার্থনা করবে যে, হে আল্লাহ যদি তুমি আবার আমায় পৃথিবীতে পাঠাও তবে বাংলাদেশে পাঠাইও অথবা বলবে যে, আল্লাহ যদি আমায় বাংলাদেশের বাসিন্দা করতে, কতইনা গর্ববোধ করতাম। তখন গর্বে আমাদের অবস্থা কেমন হবে ভাবা যায়!
মো. আমিনুল ইসলাম
অনার্স ২য় বর্ষ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ,
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
গণতন্ত্রের ভিত শক্ত হলেই উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া
শুরু হবে
একটি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম এবং প্রধান মূল নীতি হচ্ছে গণতন্ত্র, যা যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তাজগতে তুমুল আলোড়নের সৃষ্টি করেছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আধুনিক বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও এদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের মতো সর্বাপেক্ষা উত্কৃষ্ট এবং সর্বজনস্বীকৃত শাসন ব্যবস্থাকে বারংবার স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে কায়েম করার চেষ্টা চলছে, যা আমাদের দেশের জন্য মোটেও সুখকর ব্যাপার নয়। একটি দেশের গণতন্ত্র তখনই সম্ভাবনায় ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে উঠবে যখন দেশের প্রতিটি মানুষ নিজের দায়িত্ববোধ, আচার- আচরণ ও কথাবার্তায় সংযম ও নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠিত করবে এবং অন্যের অধিকার ও নিজের অধিকারের সীমা সম্পর্কে সকলে সচেতন হবে। বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন, সংবাদপত্রসহ অন্যান্য প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠতা প্রভৃতি সংস্থায় প্রকৃত গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে। আর সবার আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হলো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য গড়ে তোলার মাধ্যমে সুস্থ রাজনীতির চর্চা করা, যা দেশের রাজনীতিকদের নীতিনিষ্ঠ ও সচেতন করতে সাহায্য করবে। তবে এ ব্যাপারে সর্বস্তরের মানুষকে আপোষহীনভাবে সহিষ্ণু মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই দেশে গণতন্ত্রের ভিত আরো মজবুত হবে।
লোকনাথ রায়
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, নরসিংদী সরকারি কলেজ
