সুরকার ও গীতিকার ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলের ছোট ভাই আহম্মেদ মিরাজ খুনের নেপথ্যে তিনটি ক্লু নিয়ে এগুচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। হত্যা রহস্য উদঘাটনে সামপ্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মিরাজের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে তারা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (পশ্চিম) মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা যে দিকে ইঙ্গিত করেছে সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কোন কারণে তিনি খুন হয়েছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে মিরাজ হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পার হয়ে গেলেও থানায় কোন ধরনের মামলা হয়নি।
তদন্ত সূত্র জানায়, আহম্মেদ মিরাজ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার। খুনিরা দাওয়াত করে কিংবা কোন পার্টিতে অংশ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে বাসার বাইরে ডেকে নিয়েছে। পরে সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডস্থল শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। লাশ উদ্ধার স্থল না অন্য কোথাও খুন করেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি। মাথার পেছনে ও নাকে আঘাতের ধরন বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারণা করছেন, মিরাজকে গাড়িতে তুলে পেছন দিক থেকে আঘাত করে ও নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশটি ফ্লাইওভারের পাশে ফেলে রেখে গেছে তারা। তদন্তকারীদের ধারণা খুনিরা তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়নি। ডেকেছে ই-মেইল কিংবা ফেসবুকের মাধ্যমে। মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত হত্যার মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সব তথ্য যোগাড় করাও সম্ভব হয়নি। মিরাজের বড় বোন রুখসানা তানজিম বলেন, শনিবার সকাল থেকে কয়েক ঘন্টা ইন্টারনেটে বসেছিল মিরাজ। এরপরই সে বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে যাওয়ার কথা বলে। সেখান থেকে ধানমন্ডিতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার কথা ছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিষয় ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের আলামত দেখে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের সত্যতা মিলছে না। কারণ- ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীর হত্যাকাণ্ডের ধরন নৃশংস। তারা জবাই কিংবা কুপিয়ে হত্যা করে থাকে। এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা বলেন, হয়তো সন্দেহের বাইরে থাকার জন্য জঙ্গি গোষ্ঠী খুনের ধরন বদলে ফেলতে পারে। তিনি মনে করেন, মিরাজ ডাকাত কিংবা ছিনতাইকারীদের কবলেও পড়েননি। মৃত দেহের পকেটে দুইটি মোবাইল ফোন ও হাতে দামি হাত ঘড়ি ছিল। এদিকে খিলক্ষেত থানার ওসি শামীম হাসান বলেন, খুনের পর প্রায় ৪০ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও নিহতের স্বজনরা মামলা করেননি। তবে মামলা না হলেও হত্যা রহস্য উদঘাটনে পুলিশ বিভিন্ন কৌশলে তদন্ত করছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। এছাড়া র্যাব ও সিআইডির দুটি টিম হত্যা রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত শনিবার রাত ১টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেত খেজুর বাগানের উল্টো পাশের কুড়িল ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশের রেললাইন থেকে আহম্মেদ মিরাজের লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। নিহতের বড় ভাই আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
