দিবস

গ্লুকোমা প্রতিরোধ করুন, বিস্ময়কর পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করুন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৭
গত ১২ মার্চ, ২০১৩ ছিল বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস। নিরব অন্ধত্বের কারণ গ্লুকোমা বিষয়ে সচেতন করার জন্য বিশ্ব গু্লকোমা সমিতি প্রতি বছরই আয়োজন করে থাকে বিশ্ব গু্লকোমা সপ্তাহ এবং বিশ্ব গু্লকোমা দিবস। “গ্লুকোমা প্রতিরোধ করুন, বিস্ময়কর পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করুন”। এই হচ্ছে এ বছরের বিশ্ব গ্লুকোমা দিবসের শ্লোগান বা প্রতিপাদ্য বিষয়। বিশ্ব গ্লুকোমা সমিতি প্রদত্ত এই শ্লোগানে বোঝানো হয়েছে- গ্লুকোমা রোগে অন্ধত্ব বরণ করলে পৃথিবীর এই সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব নয়। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সা নিতে পারলে গ্লুকোমা প্রতিরোধ করা যায় এবং এ রোগ নিয়ে সারা জীবন ভালো থাকা যায়। গত ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছরই মার্চ মাসে বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস পালন করা হয়ে থাকে। এছাড়া গত ২০১০ সাল থেকে এক সপ্তাহব্যাপী বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। এ বছর ১০-১৬ মার্চ, ২০১৩ বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ এবং ১২ মার্চ বিশ্ব গু্লকোমা দিবস পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ গু্লকোমা সোসাইটির উদ্যোগে শেরে বাংলা নগর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বিনামূল্যে গু্লকোমা স্ক্রিনিং ক্যাম্প, লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার বিতরণ, বর্ণাঢ্য র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই সপ্তাহ জুড়ে দিবসটি পালন করছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে সারাবিশ্বের প্রায় ৭০ লাখ লোক গু্লকোমা রোগে ভুগছেন, এবং আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখে দাঁড়াবে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে শতকরা অন্তত ১০জন মানুষ এখন সামান্য হলেও এ রোগটির সম্বন্ধে ধারণা রাখেন। গু্লকোমা সম্পর্কে অনেকের ভুল ধারণা- গু্লকোমা হলেই চোখ অন্ধ হয়ে যাবে এবং এর কোন চিকিত্সা নেই। এই ধারণায় কিছু সত্যতা থাকলেও পুরোপুরি সত্য নয়। এটা সত্যি গু্লকোমা চোখের একটি মারাত্মক অসুখ এবং চিকিত্সার পূর্ব পর্যন্ত যেটুকু দৃষ্টি কমে গেছে সেটা আর ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। তবে যেটুকু দৃষ্টি বিদ্যমান আছে সেটুকু সুচিকিত্সা দিয়ে বাঁচানো যায়। গু্লকোমার সফল অপারেশন হলে সারাজীবনের জন্য আর ড্রপ বা ট্যাবলেট ব্যবহারের প্রয়োজন নাও হতে পারে। আপনার চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চোখের ওষুধ ব্যবহার করলে এবং চোখের চাপ স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখতে পারলে ভালো থাকার সম্ভাবনা ৮০-৯০ শতাংশ। বেশিরভাগ গু্লকোমা রোগীই চোখের ফোঁটা ওষুধ ব্যবহার করে ভালো থাকেন। তবে কোন রোগী একটি ওষুধে আবার কেউ কেউ ৩/৪টি গ্লুকোমার ওষুধ ব্যবহার করে চোখের চাপ স্বাভাবিক রাখেন। এক ধরনের গ্লুকোমায় চোখের চাপ বেড়ে ৬০-৮০ মি.মি. মারকারি হয়ে যায়। এসব রোগী চোখের প্রচুর ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি একেবারেই কমে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া এসব উপসর্গ নিয়ে চিকিত্সকের কাছে আসেন। এসকল রোগীকে অতি দ্রুত চিকিত্সা করতে হবে। ২/১ ঘন্টা দেরিতে এসব রোগীদের চোখের নার্ভ অনেকটাই খারাপ হয়ে যেতে পারে। সুতরাং কারো ব্যথাযুক্ত লাল চোখ হলে যত দ্রুত সম্ভব একজন চক্ষু চিকিত্সকের নিকটে যেতে হবে। এ জাতীয় গ্লুকোমা রোগীদের শুধু ওষুধে চোখের চাপ স্বাভাবিক হয় না । এজন্য ওষুধ দিয়ে চোখের চাপ যতটা সম্ভব কমিয়ে শল্য চিকিত্সা করতে হবে। ছোট শিশুদের গ্লুকোমা হতে পারে। জন্মগত গ্লুকোমা থাকলে চোখের আকৃতি বিশেষ করে কর্ণিয়া বা নেত্রস্বচ্ছের আয়তন বাড়তে পারে। চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে, চোখ ট্যারা হয়ে যেতে পারে। এ সববের কোন লক্ষণ দেখা গেলে— দ্রুত গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে চিকিত্সা করতে হবে। শিশুদের গ্লুকোমার চিকিত্সা ওষুধ দিয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না, এজন্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শল্য চিকিত্সা করতে হয় এবং ৭০-৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই এ চিকিত্সা সফল হয়। গ্লুকোমা হলে দুশ্চিন্তা না করে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিত্সা করালে গ্লুকোমাকে সাথে নিয়েই প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব। আপনার দৃষ্টি যতটুকু ভালো আছে এটা দিয়ে বাকী জীবন ভালোভাবেই বসবাস করতে পারবেন। তবে তার জন্য দরকার দৈনন্দিন জীবনের কিছু নিয়ম ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা। লেখক : চক্ষু ও গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ আই হসপিটাল, ঢাকা