এখন নির্বাচনী খেলার সময় নয়, ঐক্যবদ্ধ থাকার সময়: শামীম ওসমান

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৮
দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রগতিশীল শক্তির মাঝে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি করেছেন সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন, এখন নির্বাচনী খেলার সময় নয়, এখন ঐক্যবদ্ধ থাকার সময়। সুরকার বুলবুলের ভাই নিহত মিরাজ ও নারায়ণগঞ্জের আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মোহাম্মদ ত্বকীর হত্যার বিচার দাবি করে শামীম ওসমান বলেন, নিষ্পাপ এই শিশুর লাশের সামনে দাঁড়িয়ে যারা নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতে উঠেছেন তারা যুদ্ধাপরাধীদের দেয়া কমিটমেন্ট রক্ষা করছেন। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে মিরাজ ও ত্বকী হত্যাসহ সারাদেশে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডবের প্রতিবাদ এবং আগামী ১৮ মার্চ ১৪ দলের সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে জেলা ও শহর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে শামীম ওসমান একথা বলেন। এসময় সমাবেশ থেকে মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ঘোষিত সকল কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করা হয় এবং ত্বকীর খুনীদের খুঁজে বের করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। শামীম ওসমান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যে নতুন মুক্তিযুদ্ধ চলছে সেখানে ফাটল ধরাতে সক্রিয় রয়েছে এ যুগের খন্দকার মোশতাকরা। দেশের সম্পদ, আমাদের সন্তান মেধাবী ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল নেতা রফিউর রাব্বির সাহসী ভূমিকার কারণে জামায়াত শিবির তাকে হত্যা করতে পারে অথবা অন্য কেউও এই হত্যাকাণ্ড করতে পারে। ত্বকী হত্যার রহস্য অবশ্যই উদ্ঘাটন করতে হবে। কিন্তু নিষ্পাপ ঐ শিশুটির লাশের সানে দাঁড়িয়ে প্রথমদিন থেকে যারা নোংরা রাজনীতি শুরু করেছেন তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়া প্রয়োজন। শামীম ওসমান বলেন, কারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী বজলুল হুদার ভাগ্নে আর তারেক রহমানের বন্ধুর সাথে আতাত করে জামায়াত শিবির নিয়ে মিটিং করেছেন, সে কথা আমরা জানি। শামীম ওসমান একই সাথে এক এমপির সমালোচনা করে বলেন, র্যাব পুলিশকে গালাগাল করেন অথচ নিজেই পুলিশের গাড়ী নিয়ে ঘোরেন কেন? তিনি বলেন, আমি বাঙালি এবং একজন মুসলমান। আমি একবারই মরবো। নারায়ণগঞ্জ সৌহার্দ ও সমপ্রীতির অন্যতম মডেল। শামীম ওসমান বলেন, ১৯৮৮ সালের জোড়া খুন, নুরু মিয়া বাচ্চু খুন থেকে শুরু করে ২০০১ এর ১৬ জুন পর্যন্ত সকল ঘটনার দ্বায়ভার আমাদের কাঁধেই চাপানোর চেষ্টা চলেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন ফল হয়নি। তেমনি নারায়ণগঞ্জে চলমান বিভ্রান্তকর পরিবেশের সৃষ্টি করে কেউ যদি ভাবেন আমরা বিভ্রান্ত হয়ে মাঠ ছেড়ে দেব আর জামায়াত শিবিরের লোকজন মাঠ দখল করে ফেলবে তবে তারা বোকার রাজ্যে বসবাস করছেন। নারায়ণগঞ্জকে কখনওই জামায়াত শিবিরের ঘাঁটি বানাতে দেয়া হবে না। তিনি সকল বিভেদ ভুলে স্বাধীনতার সকল পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার আহবান জানান। সমাবেশে অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা এডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগ নেতা মাহাফুজুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, শাহ নিজাম উদ্দিন, জহিরুল ইসলাম পারভেজ, ছাত্রলীগ সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন প্রমুখ।