কমলগঞ্জে পান ভক্তদের দুর্দিন

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৩, ২১:১৪
সরবরাহ কমে যাওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হাটবাজারে পান ও সুপারির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পান। ফলে পানের ক্রেতাও কমে গেছে। উপজেলার শমশেরনগর ও ভানুগাছের পান-সুপারির পাইকারি ও খুচরা বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিন স্থানীয় পানের আড়ত ঘুরে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারা শমশেরনগর ও ভানুগাছ বাজার থেকে পান কিনে থাকেন। সম্প্রতি অনাবৃষ্টিতে পানের উত্পাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় এর সরবরাহ কমে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কমলগঞ্জে সপ্তাহের তিনদিন ২৪ বান্ডিলের (প্রতি বান্ডিলে ১৫০০ থেকে ২০০০ বিড়া পান) স্থলে মাত্র ১২ বান্ডিল পান আসছে। ব্যাপক চাহিদা থাকায় পানের মূল্য দ্রুত বেড়ে গেছে। খুচরা পান বিক্রেতা গোবিন্দ দে, বিমল দে, আড়তদার জামাল উদ্দীন জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও ভবানীপুর থেকে এখানে পান সরবরাহ করা হয়। সরবরাহ কমে যাওয়ায় কমলগঞ্জে পানের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। তারা জানান, কিছুদিন আগেও বিভিন্ন সাইজের পান যথাক্রমে বিড়া (৮০টি পানে) ২০ টাকা, ৪০ টাকা, ৮০ টাকা ও ৯০ টাকা হারে বিক্রি করতেন। এখন ২০ টাকার পানের বিড়া ৮০ টাকা, ৪০ টাকার পানের বিড়া ১২০ টাকা, ৮০ টাকার পানের বিড়া ১৫০ টাকা ও ৯০ টাকার পানের বিড়া ২৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনাবৃষ্টির কারণে পানের বরজে উত্পাদন অনেক কমে গেছে। ফলে পান চাষিরা বাজারগুলোতে চাহিদার অর্ধেক পান সরবরাহ করছেন উচ্চমূল্যে। এ কারণেই এখন কমলগঞ্জে পানের বাজারে আগুন। বৃষ্টি আসলেই পানের উত্পাদন বেড়ে যাবে এবং দামও কমে আসবে। এদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখানে সুপারির দামও কেজিপ্রতি ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। শমশেরনগরের সুপারীর আড়তদার সায়মন ট্রেডার্সের ইলিয়াছ আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগে যে সুপারির কেজি ছিল ২২০ টাকা, এখন সে সুপারি ২৫০ টাকা হারে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা জানান, পান-সুপারির দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন আর তারা আগের মতো এগুলো কিনতে পারছেন না।