নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে ছিটকে পড়েছেন ‘হেভিওয়েটরা’

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:২৪

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের হেভিওয়েট অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ঝরে গেছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে কেবল নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ৬৫ জন মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। গত দুই মাস যাবত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হাট মাঠ ঘাট চষে বেড়িয়েছেন। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা একজন আরেক জনের সাথে বাক্যালাপ বন্ধ পর্যন্ত করে দেয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তিক্ততা বাড়তে থাকে। যদিও ৫টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬৫জন হলেও এদের সিংহভাগই ছিলেন ডামি। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৭ জন যাদের মধ্যে ৫ জনই ছিলেন ডামি। পাশাপাশি হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও এক পর্যায়ে আট ঘাট বেঁধে মাঠে নামেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীরের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুইয়া, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী মাঠে নামেন। রূপগঞ্জ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মনোনয়ন পাওয়ার যুদ্ধে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন কর্মী নিহত পর্যন্ত হন। এক পর্যায়ে গাজীর প্রতিপক্ষরা নিজেদের অবস্থান টের পেয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে এ আসনে দাঁড় করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এরশাদও ছিটকে পড়েছেন। গাজী গোলাম দস্তগীরই রূপগঞ্জ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

অপরদিকে আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কুত্সা রটানো হলেও ইকবাল পারভেজ এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেনকে  পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত নজরুল ইসলাম বাবুই এই আসনে মনোনয়ন পেলেন। সোনারগাঁওয়ে লিয়াকত হোসেন খোকা গতকাল সোমবার মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, সংরক্ষিত মহিলা এমপি হোসনে আরা বাবলী, কায়সার হাসনাত ও মাহফুজুর রহমান কালাম। অন্যরা অনেকটা ডামি ছিলেন বলে দলের নেতা-কর্মীদের দাবি। বহুল আলোচিত ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দেন দরবার চলেছে। বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানকে যাতে মনোনয়ন দেওয়া না হয় এ জন্য নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার কতিপয় সুশিল এজন্য সভা সমাবেশে নানা কথা বলে বেড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার দাবি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী নিজেও এ ব্যাপারে কেন্দ্রে লবিং গ্রুপিং করেছেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য দলে তার ঘনিষ্ঠজনদের দিয়ে তদবির পর্যন্ত করেছেন। কেউ কেউ কাওসার আহাম্মেদ পলাশকে যোগ্য হিসাবে চিহ্নিত করার  চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু এতকিছু সত্ত্বেও কোন লাভ হয়নি। দলীয় সভানেত্রী শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমানকেই ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়েছেন।

সদর-বন্দর আসনে আলোচিত মুখ সেলিম ওসমান ওমরা শেষে দেশে ফিরেই দলীয় মনোনয়ন হাতে পান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সেলিম ওসমান নিজেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে দলীয় মনোনয়নপত্র পাওয়ার কথা এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন। মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর সেলিম ওসমান বন্দরের সুরুজ্জামান টাওয়ার কমিউনিটি সেন্টারে মহাজোটের শরীক দলসহ বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে মত বিনিময় সভা করে সদর-বন্দর আসনের উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। বিগত সাড়ে ৪ বছরে তার আসনে শিক্ষা ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় উন্নতি হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের নামে একাধিক স্কুল ও ভবন নির্মাণ করেছেন। তাছাড়া প্রয়াত নাসিম ওসমানের স্বপ্নের শীতলক্ষ্যা সেতু বাস্তবায়নের পথে।