চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থায় দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তারা।
গত ৬ মার্চ এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদের বাসায় নৈশভোজ সভা করেন বেশ কয়েকজন সাবেক সভাপতি। দুইদিন পর গুলশানের একটি হোটেলে তারা বৈঠকে বসেন। সর্বশেষ গত সোমবার আবারো এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সাত সভাপতি বৈঠক করেছেন। এর আগে এফবিসিসিআইয়ের বৈঠকে পরিচালকরা বর্তমান অস্থিরতায় এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদকে সংকট নিরসনে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন পরিচালক ইত্তেফাককে বলেনঃ আমরা সভাপতিকে বলেছি, চলমান হরতাল-সহিংসতার কারণে আমাদের (ব্যবসায়ীদের) বাস্তব অবস্থা বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝাতে উদ্যোগ নেয়ার জন্য। পরিচালক ক্ষোভের সাথে বলেন, ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ ব্যাংক সুদ দিয়ে দিনের পর দিন বসে থাকব এটা মেনে নেয়া যায় না। পরিস্থিতি এমন নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও হামলা-অগ্নিসংযোগ হচ্ছে। এ অবস্থায় রাজনীতির মত অর্থনীতিও রক্তাক্ত হয়ে গেছে। বিদেশিরা আগ্রহ হারাচ্ছে। ৪২ বছরের অর্থনীতি ধসে পড়তে ৪২ দিনই যথেষ্ট। তিনি বলেন, এই অবস্থায় আমাদের বসে থাকলে চলবে না। অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উভয় দলের প্রধানরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আমরা আশাকরি যথাযথ উপায়ে উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হলে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আমরা আশাব্যঞ্জক সাড়া পাব।
এদিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাক্ষাত্ চেয়ে চিঠি দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো ব্যবসায়ী নেতারা দুই নেতার কাছে তুলে ধরবেন। দেশের সামপ্রতিক অস্থিতিশীল পরিবেশে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। টানা হরতাল ও রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এমন সহিংস ঘটনা বন্ধ না হলে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্নক প্রভাব পড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। সাক্ষাতে এসব বিষয় উপস্থাপন করতে চান এফবিসিসিআই নেতারা।
খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করছেন সংগঠনের পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদ। তিনি গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বিরোধী দলকে অবাধ নির্বাচনের এজেন্ডা দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানোর জন্য অনুরোধ করেছি। বিরোধীদলীয় নেত্রীর সাথে দেখা করেও চলমান সংকট কাটাতে আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেয়ার অনুরোধ করব। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এর আগেও আমরা তাদের সাথে বসেছি।
তবে এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মীর সাহাবুদ্দিন মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা বলা হয়েছে। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, এফবিসিসিআইয়ের নতুন কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের রেওয়াজের অংশ হিসেবে এই সাক্ষাত্ চাওয়া হয়েছে। তবে রবিবার চিঠি পাঠানো হলেও গতকাল পর্যন্ত বিএনপি বা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সাক্ষাতের বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
