হলমার্ক কেলেঙ্কারি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এপ্রিলে

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৩, ২১:২২
বহুল আলোচিত সোনালী ব্যাংক-হলমার্ক কেলেঙ্কারির তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে আরও সময় নিয়েছে। আর এ কথা বলেছেন কমিটির সভাপতি আ হ মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। তিনি জানান, প্রতি বছর বিভিন্ন অজুহাতে কর ফাঁকি দেয়, এমন বড় বড় কর ফাঁকিবাজদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশের সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্থায়ী কমিটির বৈঠক পরবর্তী মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, সোনালী ব্যাংক নিয়ে সংসদীয় উপ-কমিটির প্রতিবেদন বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে। কমিটি আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে। তার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব, ইআরডি সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা তাদের পরামর্শ দিবেন। পরামর্শের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংকে দৈন্যতা রয়েছে। ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতিও ধরা পড়েছে। তারপরও এই ব্যাংকটি সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ব্যাংকে ৫৮ হাজার অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন আছে। এই বিশাল অডিট আপত্তির কারণে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও ব্যাংকটিতে মূলধন ঘাটতি রয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে দ্রুত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে অডিট আপত্তিগুলোকে তিন ভাগে (বড়, মাঝামাঝি ও সামান্য অভিযোগ) ভাগ করে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মূলধন ঘাটতি মোকাবেলায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুস্তফা কামাল বলেন, বর্তমানে টিন নম্বরধারীর সংখ্যা ৩৩ লাখ। এর মধ্যে মাত্র ১২ লাখ কর পরিশোধ করেন। আরও অন্তত আড়াই থেকে তিন লাখ টিন নম্বরধারীর কাছ থেকে কর আদায়ের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অনেকেই বিভিন্ন অজুহাতে প্রতি বছরই কর ফাঁকি দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে মানিটারিং জোরদার করতে বলা হয়েছে। যারা বার বার কর ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের চিহ্নিত করে তালিকা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বড় বড় কর ফাঁকিবাজদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। আর এটি করা হলে কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা কমবে। বর্তমান সরকারের গত চার বছরে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরও ইন্দোনেশিয়া ও চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। আগামী অর্থ বছরের বাজেট প্রণয়নে এই অবস্থান ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, বাজেটে নতুন করে করারোপ না করার পরামর্শ এবং কর কিভাবে কমানো যায় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, এ,কে, এম, মাঈদুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, মো. তাজুল ইসলাম, এম এ মান্নান ও গোলাম দস্তগীর গাজী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. গোলাম হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।