প্রকৌশলী বলছেন, ব্রিজ নির্মাণের কোনো রেকর্ড কার্যালয়ে নেই!
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের মিথলমা-কংশনগর সড়কের মিথলমা এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্রিজের জন্য বিভিন্ন যানবাহনের চালক, যাত্রী, পথচারীসহ এলাকার হাজারো মানুষকে প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবিলম্বে ওই ব্রিজটি ভেঙে সেখানে নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ভুক্তভোগী লোকজন।
বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, সেখানে ওই ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়ে কোনো তথ্য বা রেকর্ড তার কার্যালয়ে নেই।
জানা গেছে, মিথলমা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। এ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক-ট্রাক্টর, প্রাইভেটকারসহ ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের শত শত যানবাহন চলাচল করে থাকে। এছাড়া এ রাস্তা দিয়ে এলাকার কৃষকরা তাদের উত্পাদিত শাক-সবজিসহ কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়া এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও রোগী নিয়ে যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিজের মাঝখানের অংশ ধসে পড়ায় তাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পারাপার হতে হয়।
শিক্ষক আবদুর রব, কৃষক মনির হোসেনসহ লোকজন জানান, বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় মোকাম ইউনিয়নের আবিদপুর, মিথলমাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন ও গাড়ির চালকদের এ ব্রিজটি ব্যবহার করে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ব্রিজের মাঝখানের অংশ ধসে পড়ে সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হওয়ায় এবং কম প্রশস্তের ওই ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কও অনেক নিচু হওয়ায় ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। এ ব্রিজে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে ব্রিজটি ভেঙে সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুন্সি জানান, ‘ব্রিজটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি স্থানীয় এমপি ও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী জিহান-আল তুহিন জানান, ‘ওই ব্রিজটি ১৯৯৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জেনেছি। কিন্তু ওই স্থানে ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়ে কোনো রেকর্ড আমার কার্যালয়ে নেই। তবুও জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে ব্রিজটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সহসাই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
