আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দিলে পরদিন থেকে সারাদেশে লাগাতার হরতালের হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। নেতৃবৃন্দ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় প্রকাশ্যে তওবা করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য শাহবাগ গণজাগরণ সংগঠকদের প্রতি আহ্বান জানান। সমপ্রতি পুলিশের গুলিতে সংগঠনের অন্তত ৯ কর্মী নিহত ও ১০০০ কর্মী আহত হয়েছে দাবি করে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৫০টি বন্ধ মাদরাসা খুলে দেয়ার, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের চাকরিতে পুনর্বহাল, আলেম ওলামা ও মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করা এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া সংগঠনের নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়ার দাবিও করা হয়। যুদ্ধাপরাধের চেয়ে ধর্ম অবমাননার অপরাধ অনেক গুরুতর উল্লেখ করে হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন জামায়াত-শিবিরসহ ১৮ দলীয় জোটের সাথে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী।
উল্লেখ্য, আল্লাহ ও রাসুল (স.) এর অবমাননাকারীদের শাস্তির বিধান রেখে আইন করার দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৬ এপ্রিল সারা দেশ থেকে লংমার্চ করে ঢাকা ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে ৬ এপ্রিল রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে তাদের একটি সমাবেশ করারও কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা রুহী উল্লেখ করেন, জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কারণে শাহবাগী নাস্তিকদের প্রকাশ্যে তওবা করে জনসমক্ষে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তাদের ইসলামবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা মনে করছে আলেম সমাজকে। তাই নানা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমদের হয়রানি করছে। জঙ্গি, মৌলবাদী ও সামপ্রদায়িক ইত্যাদি অপবাদ চাপিয়ে দেশে-বিদেশে হেয়প্রতিপন্ন করছে।
তিনি দাবি করেন, মহানবীকে (সা.) কটূক্তিকারী ব্লগারদের বিচারের দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ ইসলামী দলগুলোর কর্মসূচিতে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে অন্তত ৯ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান শাহাদাত বরণ করেছেন। বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশ প্রকাশ্যে নিরস্ত্র জনগণের ওপর বেপরোয়া ও নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে শহীদ করেছে। যুদ্ধাবস্থায়ও যা কোনো দেশে সচরাচর ঘটতে দেখা যায়নি। এটি গণহত্যার শামিল এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, ১৮ দলীয় জোট বা জামায়াত-শিবিরের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু রক্ষায় আমাদেরকে ইনসাফ ও মানবতার পক্ষে কথা বলতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল আলম, মহানগর সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, পীর সাহেব ফিরোজ শাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রমুখ।
গণজাগরণ মঞ্চ ও আলেম-ওলামাদের বিভক্তিরোধে
ত্রিপক্ষীয় সংলাপের আহ্বান
গণজাগরণ মঞ্চ ও আলেম-ওলামাদের বিভক্তিরোধে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পেশাজীবী নেতারা। গতকাল পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রামের এক সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের সমর্থন দেয়ারও আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে গণমাধ্যমসহ সকল পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ১১ দফা দাবি ও অনুরোধপত্র তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল¬াহ, সহ-সভাপতি শিক্ষক নেতা এমএ ওয়াহাব চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএমএ চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী উদয় শেখর দত্ত, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের যুগ্ম সম্পাদক রাশেদ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
আজ বাদ জুমা প্রতিটি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি
হাটহাজারী সংবাদদাতা জানান,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কর্তৃক পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজ শুক্রবার বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য হেফাজতের কর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হেফাজত নেতৃবৃন্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির এক বৈঠকে সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বীর চট্টগ্রামের ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী প্রতিরোধ অবস্থানের কারণে ‘নাস্তিক ব্লগাররা’ চট্টগ্রামের পবিত্র মাটিতে প্রবেশ করার সাহস পায়নি। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের ওলামা-মাশায়েখ, সংগঠনের সকল কর্মী-সমর্থক ও তৌহিদী জনতাকে পীরে কামেল আল্লামা শাহ্ আহ্্মদ শফী জোরদার ভূমিকা রাখার জন্য আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মুফতী জসীম উদ্দীন, মাওলানা ফোরকান আহ্্মদ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুনির আহ্্মদ, মাওলানা শফিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুঈনুদ্দীন রুহী প্রমুখ।
