তরুণরা ধর্মবিরোধী নয়, তারা শুধু যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চায়

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৩
চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চে ১২ মার্চ রাতে বোমা হামলার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জামালখান সড়ক ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত, চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের কেউ কোনো ধর্মের বিরোধী নয়। এখানে কেউ নাস্তিক নয়। গণজাগরণ মঞ্চের তরুণ প্রজন্ম সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচার ও নাশকতার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ আজ কুখ্যাত গোলাম আযমসহ একাত্তরের সব রাজাকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায়। গণজাগরণ চত্বরে দেশের সব ধর্মের মানুষ ভাই ভাই। তিনি বলেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মকে ছোট করে এ রকম কোনো বক্তব্য গত ৩৮ দিনে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে দেওয়া হয়নি। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান সত্ ধার্মিক মানুষ। জামায়াতের রটনায় কান না দিয়ে প্রকৃত সত্যকে অনুধাবন করার জন্য তিনি আহবান জানান। মহানবী (দ.) এর মহান বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে নাস্তিক বা কাফের ডাকতে পারে না। যে বলে সে নাস্তিক হয়ে যায়। তিনি বলেন, সারাদেশে গণজাগরণ মঞ্চ শুধু জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন করছে। অন্য কারো নয়। কারণ জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা একাত্তরে গণহত্যা, লুট, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বাংলাদেশের মাটিতে ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিলো। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ঢাকা গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চের সহযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সকল ধর্মবিশ্বাসী মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য যে দেশে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো, সে দেশে একাত্তরের পরাজিত শত্রু জামায়াত-শিবিরের প্ররোচনা ও অংশগ্রহণে ৪২ বছর পর আবারো মন্দিরে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। সকল বিপ্লবের সূতিকাগার বীর চট্টগ্রামের মানুষকে এই হীনতত্পরতা প্রতিরোধ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে বেগবান করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানান। প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক আহকাম উল্লাহ, ছাত্র ইউনিয়নের কেদ ীয় সভাপতি এসএম শুভ, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ ীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আল জাহিদ, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান তারেক, আবদুল্লাহ আল মাসুম প্রমুখ। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়।