১৪০ কোটি টাকা বকেয়া ভ্যাট চেয়ে গ্রামীণফোনকে চিঠি

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৩
দ্বিতীয় প্রজন্মের (টু-জি) লাইসেন্সের ভ্যাটের রেয়াত নেয়া অর্থ ফেরত চেয়ে আবারো দেশের শীর্ষ স্থানীয় মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোনকে তাগাদা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রেয়াত নেয়া ১৪০ কোটি টাকা দেয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গতকালই বৃহত্ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) ভ্যাট এই চিঠি পাঠিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ঐ অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেবে এনবিআর। গত মঙ্গলবার গ্রামীণফোনের এ সংক্রান্ত একটি আপিল আপিল বিভাগ থেকে ‘নো-অর্ডার’ দেয়ায় হাইকোর্টে এনবিআরের পক্ষে দেয়া আদেশ বহাল থাকায় বকেয়া এই অর্থ পেতে এনবিআরের আর কোনো বাধা না থাকায় এই চিঠি দেয়া হয়। গ্রামীণফোনকে এই চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলটিইউ-ভ্যাটের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ থেকে গ্রামীণফোনের আবেদনে নো-অর্ডার দেয়ায় তাদের কাছে বকেয়া অর্থ পেতে আর কোনো বাধা নেই। এক সপ্তাহের মধ্যে এই অর্থ দেয়ার জন্য তাদেরকে চিঠি দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।’ সূত্র জানায়, টু-জির লাইসেন্সের অর্থ গ্রামীণফোন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে পরিশোধ করে। সেখান থেকেই তারা ভ্যাটের অর্থ রেয়াত নেয়। তবে এনবিআরের ভাষ্য হচ্ছে, বিটিআরসি ভ্যাটের অর্থ রেয়াত দেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ নয়। তাই তারা এই অর্থ রেয়াত দিতে পারে না এবং এই অর্থ রেয়াতযোগ্য নয়। পরবর্তীতে এই বকেয়া অর্থের জন্য এনবিআর কয়েক দফা গ্রামীণফোন কোম্পানিকে চিঠি দেয়। এনবিআরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বার বার এই অর্থ দেয়ার জন্য তাদের বলা হলেও তারা এতদিন কর্ণপাত করেনি। আমরা (এনবিআর) আদালতে গেলে তারা সেখান থেকে স্টে-অর্ডার (স্থগিতাদেশ) নেয়। তবে হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশটি এনবিআরের পক্ষেই ছিল। এর বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন আপিল বিভাগে যায়। তবে আপিল বিভাগ তাদের আবেদনে ‘নো-অর্ডার’ দেয়ায় এই অর্থ পেতে আমাদের আইনগত আর কোনো বাধা নেই। তিন কোম্পানির কাছে চিঠি এদিকে মোবাইল ফোন কোম্পানি রবি, বাংলা লিংক ও সিটিসেলের কাছে সিম বিক্রির বকেয়া ১৮১ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। এর মধ্যে রবির কাছে ৯০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, বাংলা লিংকের কাছে ৮২ কোটি ৩২ লাখ এবং সিটি সেল-এর কাছে ২৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা রয়েছে। এর আগে গত মাসের ২০ তারিখে এ সংক্রান্ত মামলার রায় এনবিআরের পক্ষে আসে। রায়ের সার্টিফায়েড কপি এনবিআরের হাতে আসার পর গত সোমবার এ তিনটি কোম্পানিকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য এই তাগাদাপত্র দেয়া হয়।