ওলামা মাশায়েখ তৌহিদী জনতা সংহতি পরিষদ জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও তাদের অর্থের সব উত্স সরকারিভাবে বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছে। দাবি আদায়ে আগামী ২৩ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ’র ঈমাম ও খতিব এবং পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এই মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, দু’টো ওয়াদার উপর এ দেশের জনগণ বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে। একটি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দ্বিতীয়টি কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন প্রণয়ন না করা। আমরা সরকারকে তাদের ওয়াদার কথা স্মরণ করিয়ে সতর্ক করে দিতে চাই।
মাওলনা ফরীদ উদ্দীন বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুধু যুদ্ধাপরাধী শক্তিই নয়, এরা ইসলামের শত্রু। এরা প্রকাশ্যে নবীজীর সঙ্গে তাদের দলীয় নেতার তুলনা করেছে। অথচ ইসলামে পরিষ্কার আকিদা হলো নবীর সঙ্গে কারো তুলনা হয় না। জামায়াত সাহাবী এবং ওলি-আওলিয়াদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। সুতরাং এরা ভণ্ড। ইসলামের সঙ্গে এদের কোন সম্পর্ক নেই, এরা ইসলামী দল নয়। জামায়াত ধর্মের নামে উগ্র সন্ত্রাসবাদ আমাদনি করেছে। এরাই একদিন বলেছিলো ‘বাংলাভাই মিডিয়ার সৃষ্টি’। ধর্মের নামে উগ্র জঙ্গিবাদকে রুখতে হলে জামায়াতের উগ্র সামপ্রদায়িক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ এবং তাদের অর্থের উত্সগুলোকে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
তিনি ওলামা-মাশায়েখ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে একাত্তরের মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী ২৩ মার্চের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘চলুন, সকলে মিলে আবারো গর্জে উঠি- মুরতাদ নাস্তিকদের স্থান বাংলাদেশে নেই, এদের বরদাস্ত করা হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, এবার তাদের রক্ষা নেই।’ তিনি জামায়াত ও শিবিরের তরুণ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের বলবো তারা বর্তমান জামায়াতের দায়ভার নিজেদের কাঁধে যেন না নেয়।
তিনি বলেন, ব্লগে ইসলাম ও মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ দূত রসূল (স.) সম্পর্কে কতিপয় কুত্সা রচনা করেছে। ব্লগের লেখা কতজন পড়ে? সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ জন হতে পারে। কিন্তু দু’টি পত্রিকা কিভাবে ব্লগের এসব লেখা প্রকাশ করে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে প্রচার করে সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে মওলানা ফরীদ উদ্দীন বলেন, নাস্তিক মুরতাদ জামায়াত হতে পারে। কিংবা অন্য কেউ হতে পারে। যারাই ইসলাম নিয়ে কুত্সা প্রচার করে তারা সবাই নাস্তিক ও মুরতাদ। আল্লাহ বলেছেন, মুনাফিকরা অশ্লীল কথা প্রচার করতে চায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মাওলনা আবদুল কাইয়ুম খান, মওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইফী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মওলানা আবদুল আলিম ফরিদী।
