রাজনরা আড্ডার নামে সব সময় যে কেবল হাসি-তামাশাই করে, তা কিন্তু নয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা করে তারা। যেমন আজ কথা বলছে ঢাকা শহরের উল্লেখযোগ্য কিছু স্থান সম্পর্কে। যেসব স্থানে তাদের মতো আড্ডাপাগল তরুণেরা জমিয়ে আড্ডা দিতে পারে।
রাজন :আমি মনে করি, ঢাকা শহরের তরুণদের আড্ডা দেওয়ার জন্যে সবচেয়ে ভালো জায়গা টিএসসি চত্বর। যদিও এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই বেশি আড্ডা দেয়। তবু, আজকাল বাইরের লোকজনও আসছে আড্ডা দিতে। আড্ডা দেওয়ার সময় তারা ভুলে যায় কে বাইরের আর কে স্থানীয় তথা এখানকার ছাত্র-ছাত্রী।
সজল :টিএসসির সড়ক দ্বীপে ভেতরের এবং বাইরের সবাই সমানভাবে আড্ডা দিতে পারলেও এমন কিছু জায়গা আছে, যা কেবল ভেতরের লোকজন তথা ছাত্র-ছাত্রীর জন্যই নির্দিষ্ট। অডিটরিয়ামের পাশের খোলা মাঠটার কথাই ধরা যাক। এখানে শুধু ছাত্র-ছাত্রীরাই ঢুকতে পারে। কারণ, এখানে ঢুকতে দেওয়া হয় আইডি কার্ড দেখে দেখে। এই সিস্টেমটাও কিন্তু খারাপ না। কারণ, সবাই সব জায়গায় আড্ডা দিতে পারলেও নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থাকা জরুরি। যেখানে কেবল নিজেরা নিজেদের মতো করে আড্ডা দিতে পারবে।
মেহেদী :সবাই এক জায়গায় আড্ডা দিতে গেলে খোলাখুলিভাবে আনন্দ-উল্লাস করা যায় না। আলাদা আলাদা জায়গায় আড্ডা দিলে এই সমস্যাটা হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে এমন অনেক জায়গা আছে, যেগুলো কেবল ছাত্র-ছাত্রীদের আড্ডার জন্যেই নির্দিষ্ট। যেমন—হাকিম চত্বর, অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ, অপরাজেয় বাংলা সংলগ্ন বটতলা, মল চত্বর, সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনের জায়গাটা ইত্যাদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় প্রতিদিনই চলে অন্য রকম আড্ডা। এই আড্ডায় ছাত্র-অছাত্র বলে কিছু নেই। সবাই সমানভাবে অংশ নিতে পারে।
রাজু :তোরা তো কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকা নিয়েই আছিস। বাইরে কত চমত্কার চমত্কার জায়গা আছে, তোরা চিন্তাও করতে পারবি না। একবার আড্ডা দিতে বসলে আর উঠতে ইচ্ছে হয় না। রবীন্দ্র সরোবরের কথাই ধরা যাক। তোরা কখনও সেখানে গিয়েছিস কিনা জানি না। না গিয়ে থাকলে ঠিক বুঝানো যাবে না। তবু বলছি। ওখানে এমন বড় বড় ঘাস আছে, যা কেবল গ্রাম অঞ্চলেই দেখা যায়। এই ঘাস দেখে যে কেউ বসার লোভ সামলাতে পারে না। একবার বসতে পারলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়, তবু আড্ডা শেষ হয় না। সিঁড়ি এবং ওয়ালের মাথায় বসার চমত্কার জায়গা তো আছেই।
সজল :কথা যখন চলেই এল তা হলে রমনা পার্কের কথা বাদ থাকবে কেন? তোরা জানিস কিনা জানি না, এখানে কিন্তু সব শ্রেণীর লোকেরাই ঘুরতে আসে, আড্ডা দিতে আসে। বিশেষ করে, সকালে আসে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তারা ব্যায়াম করার পর যখন রেস্ট নেয়, তখন মেতে ওঠে খোশ গল্পে। শুক্রবার হলে তো কোনো কথাই নেই। প্রায় দুপুর পর্যন্ত আড্ডা চলে। ঢাকা শহরের আধুনিক রেস্টুরেন্ট আর আইসক্রিম পার্লারগুলোও আড্ডার খুব ভালো জায়গা। তবে, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা দেওয়া সম্ভব হয় না।
মেহেদী :দিন যত যাচ্ছে ততই সংকুচিত হয়ে আসছে ঢাকা শহরের আড্ডার স্পটগুলো। এ ছাড়া নিজেদের বিকাশের একটা ব্যাপার তো আছেই। তাই তরুণ এবং আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে আড্ডার স্থানগুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হোক।
