তখন তার বয়স মাত্র ১০ বছর, তিনি তার জীবনের প্রথম প্রোগ্রামটি তৈরি করেন। নাম দিয়েছিলেন লোগে মাইন্ডস্ট্রম রোবটস। সেইসময় সিঙ্গাপুরে একটি রোবো কাপ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। তিনি সেখানে অংশ নিয়ে বিজয়ীর খেতাবটি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। প্রোগ্রামটি জাভা এবং সি নামের দুটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে লিখেছিলেন তিনি। সেই প্রতিযোগিতা তার জীবন বদলে দিয়েছিল। তাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
বর্তমানে তার বয়স ১৭ বছর, তিনি একটু হাই-লেভেলের প্রোগ্রাম ডিজাইন করা শুরু করেছেন। পৃথিবীর জনপ্রিয় স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে একটি হলো, আইফোন! বেশ কয়েক বছর হলো ফেলিক্স আইফোনের জন্য কাজ করছেন। তিনি আইফোনের জন্য প্রোগাম লিখছেন। অবশ্য এই কাজে ঢুকতেও তাকে প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে আসতে হয়েছিল। ইউ-১৯ নামের একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। ‘ফ্রিস্টাইল কম্পিউটিং কম্পিটিশন’ নামের এই প্রোগামে বিজয়ী হয়ে আইফোনের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান তিনি। বর্তমানে তার কোম্পানির পক্ষ থেকে তিনি, ‘উইন্ডারলিস্টের’ টাস্ক ম্যানেজার প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন। আর এই কাজ করার জন্য তার সাথে রয়েছে ৫ সদস্যের একটি টিম। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই তরুণ প্রতিভার পড়াশোনা পর্বটি এখনও শেষ হয়নি। তিনি অস্ট্রেলিয়ার একটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে টুয়েলভ গ্রেডে পড়াশোনা করছেন। তার নিজের জন্য ডেভেলপ করা দুটি ওয়েবসাইট আছে। সেগুলোতে তার সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানিয়ে রেখেছেন তিনি। একটি হলো, ‘ফেলিক্সক্রাউজ অ্যাট’ এবং অপরটি, ‘ক্রাউজএফএক্স’। একজন তরুণ প্রোগ্রামারের সাথে সাথে তিনি একজন সফল ওয়েব ডেভেলপারও। সেই সাথে একজন উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারী হিসেবেও পরিচিত। তবে এসব দিক দিয়ে নয়, তিনি মূলত সকলের কাছে সুপরিচিত একটি ওয়েবসাইটের কারণে। তার বানানো এই সাইটটি জনপ্রিয় কিছু ওয়েবসাইটের তালিকায় প্রথমে আসে। এমনকি অ্যালেক্সা জরিপেও তার সাইটটি পাওয়া যায়। এটাই প্রথম পিয়ার টু পিয়ার(পি টু পি) ফাইল আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম। বলা হয় অ্যাজাক্স ব্যবহার করে তৈরি করা এই সাইটটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে ওয়েব জগতে। সেসময় এ সাইটটির জনপ্রিয়তা এত বেড়ে গিয়েছিল যে, তার নাম টাইমস ম্যাগাজিনের তরুণ প্রোগ্রামারদের তালিকায় আনা হয়েছিল। তবে হতাশাজনক যে, ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এক কপিরাইট মামলার কারণে। এরপর সাইটটিতে সাবস্ক্রিপশনের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি নিজে এতে বিনিয়োগ করেন। ক্রাউজের জন্ম ম্যাসাচুসেটস শহরের ব্রোকটন এলাকায়। ছোটবেলা থেকে গ্রীষ্মের ছুটিতে প্রায়ই তিনি তার বাবার সাথে একটা ইন্টারনেট কোম্পানিতে কাজ করতে যেতেন। সেখানেই মূলত তার কম্পিউটারের সাথে পরিচয় হয়। খুব ছোট ছিলেন তিনি। কিন্তু অন্যসব বাচ্চাদের মতো গেম নিয়ে মেতে উঠেননি কখনও। যখন তিনি কোডিং শেখেন, সেটা দিয়ে প্রথমে একটা প্রোগ্রাম লেখেন যাতে করে সবাই অনলাইন থেকে গান ডাউনলোড করতে পারবে। এক কথায় বলা যায়, গান ডাউনলোড করার সহজ পন্থার কথা ভেবেছিলেন তিনি। এরপর তিনি ও তার দুই বন্ধু মিলে একটি মিডিয়া সাইট ডেভেলপ করেন। ডিজিটাল মিডিয়া হিসেবে বাজারে আসে কোম্পানিটি। কিন্তু শুরুটা হয় তাদের খুব খারাপভাবে। তাদের পরিবার থেকে এই ব্যাপারে তারা তেমন সাড়া পাননি। সাড়া পাননি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও। অবশেষে বন্ধ করে দিতে হয় তার এই সাইট। কিন্তু থেমে যাননি তিনি। কারও সাহায্য না নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলো শিখে ফেলেন। এরপর খোঁজ নিতে থাকেন বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাগুলোর। আর নিজ যোগ্যতায় আজ তিনি একজন সফল প্রোগ্রামার ও ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
