বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার্থীরা সেই সব ডিগ্রি সম্পন্ন করতে আগ্রহী হচ্ছে যার রয়েছে আভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা। এদিক দিয়ে গ্লোবাল সিএ’র চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এসিসিএ, সিএটি, এফআইএ। এই পেশা ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছিল ১৯০৪ সালে। সে সময় থেকে বর্তমানে এর ১৫৪০০০ মেম্বার ৪৩২০০০ শিক্ষার্থী বিশ্বজুড়ে ৮৩টি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রদান করে আসছে। আর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের প্রায় দেশেই এসিসিএ-দের চাকরির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসিসিএ কোর্সটি সিএ, আইসিএমএ, সিআইএমএ, সিপিএ প্রভৃতির মতো সমমানের। সিএ এবং এসিসিএর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সিএ স্থানীয় কারিকুলাম আর এসিসিএ হচ্ছে ব্রিটিশ কারিকুলাম। এটি একমাত্র কোর্স, যা যেকোনো পর্যায়ে ইংল্যান্ডসহ ১৭৩টি দেশে শতভাগ ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টেন্টস এবং সার্টিফাইড একাউন্টিং টেকনিশিয়ান, ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্টেন্সি প্রফেশনাল কোর্স। সিএটি হচ্ছে অ্যাকাউন্টিং কোয়ালিফিকেশন যেখানে অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক থেকে শেখানো হয়। এটি করার পর দ্রুত এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এফআইএ হচ্ছে এসিসিএ’র এন্ট্রি লেভেলের স্যুট অব কোয়ালিফিকেশনস যা থেকে শিক্ষার্থীরা পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চমত্কার কোর্স বেছে নিতে পারে। বিবিএ-এমবিএ পড়তে হলে এসএসসি পাসের পর এইচএসসি পাসের জন্য দুই বছর, বিবিএ’র জন্য ৪ বছর এমবিএ’র জন্য ২ বছর অর্থাত্ প্রায় ৬-৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। সাথে খরচতো রয়েছেই। কিন্তু এসএসসি ও এইচএসসি’র পর যেকোনো শিক্ষার্থী ৪-৫ বছরে আন্তর্জাতিক মানের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বের সব জায়গায় এটি পড়া যায় এবং সবদেশে পরীক্ষা দেওয়া যায়। অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটির সাথে এসিসিএ’র চুক্তি থাকায় সেখান থেকে বিএসসি অনার্স ইন অ্যাপ্লাইড অ্যাকাউন্টিং এবং এমবিএ ডিগ্রি পাওযা যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদা করে এই বিষয়ে অনার্স এবং এমবিএ পড়তে হয় না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বিবিএ-এমবিএ করতে ৫-১২ লাখ টাকা লেগে যায়। সেখানে যথেষ্ট কম খরচে সিএটি, এসিসিএ, এফআইএ সম্পন্ন করা যায়। এই নিয়ে আরও জানতে কথা বলতে পারেন ৮১৪১৬০১, ০১৭৩৩০২৭৫২১ এই নম্বরে।
এসিসিএ-তে একসাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ের উপর পরীক্ষা দেওয়া যায়। এর পরীক্ষা পদ্ধতি সহজ। কোনো শিক্ষার্থী চার বিষয়ের মধ্যে এক বিষয় ফেল করলে এক বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। বাংলাদেশে এই কোর্সটি ব্রিটিশ কাউন্সিলে পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। পরীক্ষা বছরে জুন এবং ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। তবে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় হতে পারে। এই নিয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :বাড়ি-৫১, রোড-১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা। চাহিদার কারণে এই কোর্স শেখানোর নামে এ দেশে অসংখ্য কেন্দ্র গজিয়ে উঠেছে। ফলে প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রতারণার শিকার হয়। এ জন্য ভর্তির আগে দেখতে হবে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন ও অভিজ্ঞতা কত দিনের, কাঠামোগত অবস্থান কেমন, ফাইন্যান্সিয়াল ক্যাপাসিটি কেমন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্লাসরুম আছে কিনা, কম্পিউটার ল্যাব সুবিধা, ইন্টারনেট, নিজস্ব সফটওয়্যার, গ্রুপ স্টাডি করার মতো লাইব্রেরি এবং পর্যাপ্ত আপডেট বই আছে কিনা, সুন্দর পরিবেশ, সিকিউরিটি এবং সর্বোপরি এক্ষেত্রে সাফল্যের অবস্থান দেখতে হবে। এ দেশে এই কোর্স শেখার পূর্ণাঙ্গ সুযোগ রয়েছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে। প্রতিদিন এখানে ১০০ জন শিক্ষার্থীর অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সামর্থ্য থাকার কারণে এই প্রতিষ্ঠানকে কম্পিইটার বেজড পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখানে অনলাইনে পরীক্ষা দিতে পারছে। এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফুলটাইম পার্ট টাইম টিউশন স্কিমের মাধ্যমে পড়ালেখা করছে।
