প্রয়োজনীয় লোকবল ও ওষুধপত্রের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার বাসিন্দারা চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্বল্প সংখ্যক চিকিত্সক ও সীমিত জনবল দিয়ে চলছে চিকিত্সা কার্যক্রম। চাহিদা মত নার্স ও ডিএসএফ সুবিধা না থাকায় অপারেশন থিয়েটার চালু করতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাড়ে তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত নাসিরনগর জনপদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে ১টি পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিত্সক, কর্মচারি, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির স্বল্পতা, বিদুত্, পানি, স্যানিটেশন সমস্যা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জরাজীর্ণ অবকাঠামো, চিকিত্সক ও কর্মচারিদের আবাসিক সংকট, ব্লাড ব্যাংক না থাকাসহ নানাবিধ সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের জন্য একমাত্র এ হাসপাতালটি ২০০৪ সালে ৩১ শয্যা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোন প্রকার উন্নতি ঘটেনি। এখানে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়নি। এ কারণে অপারেশন থিয়েটারে স্থাপিত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অযত্ন অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এখানে দুর্গম ৬টি ইউনিয়নসহ দূর-দূরান্ত থেকে চিকিত্সাসেবা নিতে এসে অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এখানে এসে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না পেয়ে চিকিত্সার জন্য জেলা সদরের হাসপাতালে যান। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের সিজারিয়ান (সিজার) করা জরুরি হয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডাক্তারের পরিবর্তে চিকিত্সা দিচ্ছে হাসপাতালের পিয়ন আর ওয়ার্ড বয়রা। ফলে সব সময় রোগীরা মৃত্যুর ঝুঁকির আশংকায় থাকেন।
বর্তমানে উপজেলা কমপ্লেক্সে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছে মাত্র ৭ জন ডাক্তার। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) এ দুইজন ডেপুটেশনে রয়েছে। প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া) জুনিয়র কনসালটেন্ট (স্যার্জিকেল) জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি এন্ড অবস) জুনিয়র কনসালটেন্ট (ডেন্টাল), জুনিয়র কনসালটেন্ট (নাক, কান গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্টসহ (চর্ম ও যৌন) অনেক চিকিত্সকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। তাছাড়া যে কয়জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছে তাদের মধ্যে কতিপয় ডাক্তার বিএমএ’র নাম ভাঙ্গিয়ে প্রায়ই হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৪ জন নার্সের স্থলে মাত্র ২ জন কর্মরত রয়েছে। ৫০ শয্যা হাসপাতাল হিসেবে খাদ্য বরাদ্দ পাওয়া গেলেও চাহিদা মোতাবেক ওষুধপত্রসহ চিকিত্সক, নার্স ও জনবল পোস্টিং দেয়া হয়নি। অথচ এ হাসপাতালে প্রায় সময় ইনডোরে ৬০/৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে এবং আউটডোরে ৩/৪শ রোগী চিকিত্সা নিতে আসে।
