জামায়াত-শিবিরমুক্ত দেশ গড়ার শপথ

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৯
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি আর আইন করে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হলো সাভারের আশুলিয়ার গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ থেকে। জামায়াত-শিবিরমুক্ত দেশ গড়ার শপথ নিয়েছে ছাত্র-শ্রমিকসহ সব পেশাজীবী মানুষ। শাহবাগ আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লেও গতকালই প্রথম শ্রমিক শ্রেণির বিপুল অংশগ্রহণে আশুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো সমাবেশ। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার তার বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যেমন সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল; গণজাগরণ মঞ্চেও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করছি। তারই অংশ হিসাবে সাভারে শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা স্থাপন করতে এসেছি। তিনি সমাবেশে গণজাগরণ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, শাহবাগে গণজাগরণ আন্দোলনের সূচনা ও এর ব্যাপ্তি এবং এরই ধারাবাহিকতায় আশুলিয়ায় গণজাগরণ সমাবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে আয়োজিত শুক্রবারের এ সমাবেশে হাজার হাজার শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণির সম্পৃক্ততার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন ইমরান। এদিকে এ সমাবেশ আয়োজনে বাধা দেয়ার হুমকি দিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম নামে একটি সংগঠন। এমনকি গতকাল দুপুর বারোটার দিকে সাভারের আশুলিয়ায় বেরন ও গাজীরচর এলাকায় পাঁচটি ককটেল ফাটানো হয়। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সভা পণ্ড করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু তারপরও মানুষের অংশগ্রহণের কমতি ছিল না গণজাগরণ সমাবেশে। দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সবাই গণজাগরণ মঞ্চে আসতে থাকেন। এর মধ্যে শ্রমিকদের অংশগ্রহণই ছিল বেশি। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পতাকা হাতে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী সমাবেশে যোগ দেন। গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষে ডা. ইমরান এইচ সরকার, শ্লোগান কন্যা লাকী আক্তার, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সভাপতি তুহিনসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা। সমাবেশের প্রথমেই কোরআন তেলাওয়াত, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়। এর পর বিকাল সোয়া চারটার দিকে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত শেষে ডা. ইমরান এইচ সরকার তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করার আহ্বান জানালে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।