ইসলামী গণজাগরণ মঞ্চ গড়বে হেফাজতে ইসলাম

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৩
আল্লাহ্ ও রাসুল (সা.) এর মর্যাদা রক্ষা এবং ইসলাম বিরোধী প্রচারণা প্রতিরোধ করতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ‘ইসলামী গণজাগরণ মঞ্চ’ গড়বে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ইসলামী গণজাগরণ মঞ্চের যাত্রা শুরু হবে। ওইদিন সারা দেশে হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য সমমনা দলের ঢাকামুখী লংমার্চ এখানে এসে জড়ো হবে। ইসলাম ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। এছাড়াও বগুড়ায় গতকাল হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে কয়েকটি পত্রিকা বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়। সিলেটে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের শাবি থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতেও একই সংগঠনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে বরিশালে গতকাল তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়া সমাবেশে ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারী, নাস্তিক ব্লগারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, গণহত্যার বিচার ও আগামী ৬ এপ্রিল লংমার্চ সফল করার দাবি করা হয়। ইত্তেফাকে চট্টগ্রাম অফিস, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া প্রতিনিধি, সিলেট অফিস ও বরিশাল অফিসের পাঠানো খবর। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নগরীর আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের সামনে গতকাল জুমার নামাজের পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সমাবেশ করে। সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী বলেন, শাহবাগীরা ইসলাম ধর্ম অবমাননার মাধ্যমে সামপ্রদায়িক উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করেছে। তারা জনসাধারণের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির চক্রান্ত করছে, যা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপকৌশল। সমাবেশে বক্তারা ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংবলিত যে ধারা বাতিল করা হয়েছে, অবিলম্বে তা পুনর্বহালের দাবি জানান। ব্লগের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের অবমাননা প্রতিরোধ করতে সরকার সমপ্রতি যে কমিটি গঠন করেছে, তাতে আলেম ওলামাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়। সমাবেশে সম্প্রতি দেশব্যাপী সহিংসতায় হেফাজতে ইসলামের যেসব সদস্য হতাহত হয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বন্ধ করে দেয়া কওমী মাদ্রাসাগুলো অবিলম্বে খুলে দেয়ার দাবি জানানো হয়। হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে গতকাল জুমার নামাজের পর হাটহাজারী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও তৌহিদী জনতার মিছিলে উত্তাল ছিল। হাটহাজারীর প্রতিটি মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়া মিছিল থেকে ব্লগার নাস্তিকদের ফাঁসি চাই, গণহত্যার বিচার চাই, আলেম ওলামার মুক্তি চাই ইত্যাদি শ্লোগানে মুখরিত হয়। পরে মিছিলগুলো একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে রূপ নেয়। উপজেলার সবচেয়ে বড় মিছিল ও সমাবেশ হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আগামী ৬ এপ্রিল দেশের ৬৮ জেলা থেকে লংমার্চের মাধ্যমে ডাকা ঘেরাও কর্মসূচি পালনে একাত্মতা ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে আল্লামা হবীবুর রহ্্মান কাসেমী বলেন, সরকারের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে চিহ্নিত নাস্তিক-মুরতাদরা এ দেশের বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। এই জালিম সরকারের অধীনে ইসলাম, মুসলমান এবং দেশের সাধারণ নাগরিক নিরাপদ নয়। এছাড়াও উপজেলার চারিয়ায় হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা আবু নাসেরের সভাপতিত্বে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় গতকাল জুমার নামাজ শেষে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এক সমাবেশ করে। সমাবেশে ইসলামী ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেছেন, দেশে বেঈমানদের বিরুদ্ধে ঈমানদারদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নাস্তিকদের মদদে চলা শাহবাগীদের ইন্ধন দিচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ এটা মেনে নিচ্ছে না। আগামী সংসদ নির্বাচনে এর কঠিন জবাব দেয়া হবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শহরের আমলাপাড়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল কাদির। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বদানকারী ব্লগারদের নাস্তিক বলে অভিহিত করে তাদেরকে বগুড়ায় হেফাজতে ইসলামের নেতারা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। গণজাগরণ মঞ্চের কোন নেতাকে যমুনা সেতু দিয়ে উত্তরাঞ্চলে আসতে না দেয়ার হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি । নাস্তিক ব¬্লগারদের ফাঁসির দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল বাদ জুমা শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ থেকে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এ হুমকি প্রদান করেন। সমাবেশ থেকে কালের কণ্ঠ, প্রথম আলো ও জনকণ্ঠ পত্রিকা বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে এই ঘোষণা দেয়া হয় বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামের অবমাননা করে তসলিমা নাসরিন যেমন দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, আজকে যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আল্ল¬াহ, রাসুল (সা.) এবং ইসলামকে কটাক্ষ করছে সেইসব নাস্তিককে অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে। সরকার তাদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে নিয়ে এ দেশের আলেম সমাজ তাদের বিচারের ব্যবস্থা করবে। সিলেট অফিস জানায়, নগরীর বন্দরবাজার জামে মসজিদ থেকে গতকাল জুমার নামাজ শেষে হেফাজতে ইসলামের বিশাল মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্টপয়েন্টে এসে এক সমাবেশ করে। সমাবেশে মাওলানা রেজাউল করিম জালালালী সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নাস্তিক মুরতাদদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এ দেশের আলিম উলামারা ঘরে ফিরে যাবে না। অবিলম্বে ব্লগার নাস্তিকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সমাবেশে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা কথাসাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে শাবি থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, নাস্তিক শাহবাগীদের উস্কানি দিয়ে তিনি দেশে গৃহযুদ্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। বরিশাল অফিস জানায়, তৌহিদী জনতার ব্যানারে ইসলামী দলগুলো গতকাল জুমার নামাজের পর নগরীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে । নগরীর পাড়া মহল্লার মসজিদ থেকে বের হওয়া এসব মিছিল নগরীর সোনালী আইসক্রিম মোড়ে জড়ো হয়। সেখান থেকে বিশাল মিছিল নিয়ে আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতালের মাঠে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগা ময়দানে মহা-সমাবেশে ও আগামী ৬ এপ্রিল লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশ হতে অবিলম্বে অশ্বিনী কুমার হল থেকে গণজাগরণ মঞ্চ সরিয়ে নেয়াসহ শাহবাগ মঞ্চ সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও সমাবেশে নাস্তিক মুরতাদদের বরিশালে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।