সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওয়াহিদুল হকের জন্মদিন আজ

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৫
বাংলাদেশের সংস্কৃতির পথ নির্মাণের অগ্রপথিক ছিলেন ওয়াহিদুল হক। আজ তাঁর ৮০তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সংগঠক। গায়ে পাঞ্জাবি, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে আমৃত্যু সারা বাংলাদেশ চষে বেড়িয়েছেন। এই নিরাভরণ মানুষটি ছিলেন প্রত্যেকের কাছের মানুষ। তা সে বুদ্ধিজীবী হোন কিংবা নিতান্ত সাধারণ মানুষ। সবাই তাঁর সংস্পর্শে এসে নতুন মন্ত্রের দেখা পেয়েছেন। আর তা হচ্ছে মানুষকে ভালবাসার মন্ত্র। যে মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে তিনি সকলকে সাথে নিয়ে রচনা করেছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতির পথ। তাই ওয়াহিদুল হক পার্থিব নিয়মে বেঁচে না থাকলেও দেশের সংস্কৃতিবান মানুষের সত্তায় বেঁচে আছেন। ওয়াহিদুল হক ১৯৩৩ সালের ১৬ মার্চ কেরানীগঞ্জের ভাওয়াল মনোহরীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ওয়াহিদুল হকের পুরো নাম আবুল ফারাহ মোহাম্মদ ওয়াহিদুল হক। ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান দেশে সংস্কৃতির ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। ছায়ানট, আবৃত্তি প্রতিষ্ঠান ‘কণ্ঠশীলন’, মৃত্যুর কিছুদিন আগে গড়ে তোলা ‘নালন্দা’ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠা এবং তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠা করা ওয়াহিদুল হকের সবচেয়ে বড় অবদান। পাশাপাশি তিনি রবীন্দ সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ গঠন করে সারা দেশে রবীন্দ সঙ্গীত চর্চায় মানুষকে আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়াও তাঁর অনুপ্রেরণায় গড়ে উঠেছে আনন্দধ্বনি, বাংলাদেশ ব্রতচারী সমিতি, সরোজ সংস্কৃতিবৃত্ত প্রভৃতি সংগঠন। তিনি অবজারভারের শিফট-ইন-চার্জ, ডেইলি স্টারের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে কাজ করেছেন। দৈনিক জনকণ্ঠ ও দৈনিক ভোরের কাগজে তিনি নিয়মিত কলাম লিখেছেন। ষাটের দশকের গোড়াতে ছায়ানট আন্দোলন ও একে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপদানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ৪২ বছর আগে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান তিনি। ছায়ানটে স্মরণ অনুষ্ঠান: ছায়ানট এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাতটায় ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠান আরম্ভ হবে। স্বদেশ ও দ্রোহের গান-কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই অনুষ্ঠান।