ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পাট বীজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বীজ অফিসে প্রতিদিন শত শত কৃষক এসে বীজ না পেয়ে হতাশায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বীজের সংকট দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের বীজ উচ্চমূল্যে বিক্রি করে কৃষকদের প্রতারিত করছে। এবছর ডিজেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেচ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও অর্জিত হয়নি। কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এবার উপজেলায় ২১ লক্ষ ১৯ হাজার হেক্টর জমি বোরো আবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ফলে অনাবাদি জমিতে পাট চাষের স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু বীজের এই সংকটের কারণে উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার আশংকা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা বিএডিসি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর বীজের চাহিদা করা হয়েছিল ৬০০ কেজি। প্রথম ধাপেই ৬০০ কেজি বীজ পেয়ে কৃষকদের মধ্যে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু আরো প্রায় ২ হাজার কেজি বীজ এ উপজেলায় চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বীজ না থাকায় প্রতিদিনই শত শত চাষি হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের পাট চাষি তালেব হোসেন জানান, গত চারদিন যাবত্ অফিসে বীজের জন্য এসে ফিরে যাচ্ছি। আজ নয় কাল, এই সপ্তাহে নয় আগামী সপ্তাহে- এমনি ভাবে তারিখ দিন ঠিক করেও বীজ দেয়া হচ্ছে না। এখন আমার জমি অনাবাদিই থেকে যাবে।
উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের চরপুম্বাইল গ্রামের পাট চাষি গিয়াসউদ্দিন (৫০) জানান, ৩/৪ দিন ঘুরেও বীজ না পেয়ে কৃষি অফিসের পাশে এক দোকান থেকে বিএডিসির বীজ ২৫০ টাকা কেজি মূল্যে কিনতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম.এ মাজেদ জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর পাটের বীজের চাহিদা বেশি। গত বছর পাট বীজ বিক্রি কম হওয়ায় বিএডিসি বীজের চাহিদা কম দেখানোয় এ সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি আবার ২ হাজার কেজি পাট বীজের জন্য বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদাপত্র প্রেরণ করেন। কয়েকদিনের মধ্যেই আবার কিছু বীজ পাওয়া যেতে পারে।
এ ব্যাপারে বিএডিসির ডিজি ময়মনসিংহের সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত বছরের চাহিদার চেয়ে এবছর বীজ কম বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এজন্য বীজের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি ময়মনসিংহের জন্য আবারো বীজ আনতে চেষ্টা করছেন।
