খুলনায় বরুণ কুমার দে (৩৮) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল এক ছিনতাইকারীকে আটক করতে গিয়ে তার হামলায় নিহত হয়েছেন। নগরীর খানজাহান আলী থানার পথেরবাজার চেকপোস্টে গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ মেহেদী হাসান রতন (২০) ও মেহেদী হাসান (২৯) নামে দুই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। খানজাহান আলী থানার ওসি জানান, পথেরবাজারের চেকপোস্টে অন্যান্য দিনের মতো দায়িত্ব পালন করার সময় এক ছিনতাইকারীকে আটক করতে গিয়ে তার হামলায় কনস্টেবল বরুণ নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কনস্টেবল বরুণ কুমার দে অন্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর খানজাহান আলী থানার পথেরবাজার বাজার চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসাবে পুলিশ এক বেবিট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের শরীর তল্লাশির উদ্যোগ নেন। তখন একজন যাত্রী বেবিট্যাক্সি থেকে লাফ দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল বরুণ কুমার দে ওই যাত্রীকে আটক করার জন্য তার পিছু ধাওয়া করে। চেকপোস্ট থেকে বেশ কিছু দূরে ফারাজী বাড়ি লেনের পুরাতন বিদ্যুত্ অফিসের গলির মধ্যে ওই যাত্রী ও কনস্টেবল বরুণ ঢুকে পড়ে। অন্য পুলিশ সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওই স্থান থেকে মৃত অবস্থায় বরুণকে উদ্ধার করে। নিহত পুলিশ কনস্টেবল বরুণ ভোলা জেলার সদর উপজেলার কাপুতা গ্রামের পাঁচু গোপাল দে’র ছেলে। তিনি খানজাহান আলী থানার পথেরবাজার পুলিশ ক্যাম্পের নিকট একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অপর দুই বেবিট্যাক্সি যাত্রী মেহেদী হাসান রতন ও শেখ মেহেদী হাসানকে আটক করে। খানজাহান আলী থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া বেবিট্যাক্সি চালক আনন্দকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পথেরবাজার ক্যাম্প ইনচার্জ বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
