যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি দেশের জন্য ক্রমশ হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া এবং ইরান দূরপাল্লার ব্যাপক বিধ্বংসী মিসাইলের কার্যক্ষমতা বাড়ানোয় মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এজন্য জাপানে একটি রাডার ট্র্যাকিং স্টেশনসহ আলাস্কায় চৌদ্দটি অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর স্থাপন করা হবে বলে জানান হেগেল। ২০১৭ সালে ইন্টারসেপ্টর স্থাপন শেষ হবে। এখন ক্যালিফোর্নিয়াও আলাস্কায় ৩০টি ইন্টারসেপ্টর মোতায়েন রয়েছে। হেগেল বলেন, মার্কিন জনগণের সুরক্ষার জন্য তারা এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ্্উত্তর কোরিয়া ভ্রাম্যমাণ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জেমস ক্লেপার একথা জানানোর পরপরই হেগেলের এই ঘোষণা আসে।
গত মাসে পিয়ংইয়ং এর পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ এর তীব্র নিন্দা জানায়। সফল পরমাণু পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে এই বলে হুঁশিয়ারি দেয় যে দেশটি তার শত্রুতাপূর্ণ আচরণ বজায় রাখলে তার শক্ত জবাব দেয়া হবে।
গত সপ্তাহেই বিষয়টি নিয়ে জরুরী আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র। হেগেল শুক্রবারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সীমিত আক্রমণ ঠেকাতে তাদের কাছে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়া সমপ্রতি যে পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছে তা উস্কানিমূলক। ইরানের পরমাণু কর্মসূচিও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। দেশের সুরক্ষার কথা ভেবে পশ্চিম উপকূলে মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
গত মাসে তৃতীয়বারের মতো উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমা পরীক্ষা চালানোকে কেন্দ্র করে কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনা বেড়েছে। উত্তর কোরিয়ার ওই পদক্ষেপের পর দেশটির ওপর নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞা জারি করে জাতিসংঘ।
