বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৭
দলীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চার পাশাপাশি চাই অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ গণতন্ত্রের আদলে আমাদের দেশে যা চলছে তা নতুন এক শাসন ব্যবস্থা—পরিবারতন্ত্র। দেশের গণতন্ত্র যাদের প্রতিষ্ঠা করার কথা অর্থাত্ প্রধান দুই রাজনৈতিক দল, তাদের মধ্যেই কোন গণতন্ত্রের চর্চা নেই— তাহলে তাদের দ্বারা কিভাবে উদারনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা আশা করা যায়। দুই দলেরই প্রধান পদ নির্দিষ্ট আছে বছরের পর বছর ধরে। দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও দলীয় প্রধানই নির্ধারণ করে দেন, কাউন্সিল হয় না বছরের পর বছর, হলেও সব পদ আগেই ঠিক করে শুধু লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় মাত্র। এভাবে দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত। তাছাড়া যতবারই অসাম্প্রদায়িক দেশ প্রতিষ্ঠার আওয়াজ ওঠে ততবারই তাকে ধর্মবিরোধী তত্পরতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়। আর অসাম্প্রদায়িকতা ছাড়া কোন রাষ্ট্রই উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে না। তাই উদারনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আগে চাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তার যথাযথ চর্চা, সাথে সাথে জনসাধারণের কেবল ধর্মের দৃষ্টিতে সবকিছু বিবেচনা না যুক্তিবাদী চিন্তার মানসিকতায় বিবেচনা করার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। তাহলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমরা বাংলাদেশকে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখলেও দেখতে পারি। আল-আমিন মুহম্মদ, ২য় বর্ষ, ৩য় সিমেস্টার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ---- গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সবাইকে উদার ও ত্যাগের নীতি অবলম্বন করা উচিত বর্তমানে গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন এই বাংলাদেশের রাজনৈতিক যে অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে তা সত্যিই দুঃখজনক। আজ আমাদের চারপাশে শুধু আতঙ্ক, ভয়, সংঘাত, হত্যা, গুম ইত্যাদি অরাজকতা বিরাজমান। সরকার ও প্রধান বিরোধীদলের বিপরীতমুখী অবস্থান, প্রতিহিংসাময় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের মনোভাব দেশকে সংঘাত থেকে আরো চরম সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর এরকম একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি আমাদের কারো কাম্য ছিল না। এ অবস্থাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আমাদের পোশাকশিল্প, আমাদের অর্থনীতি আর বিশেষ করে সাধারণ জনগণ। সাধারণ জনগণের তো ভোগান্তির কোন সীমা-পরিসীমা নেই। আজকের এই চলমান সহিংসতা, গুম, হত্যা, দুর্নীতি, সাগর-রুনি হত্যার বিচার, ইলিয়াস আলী গুম, শেয়ারবাজার, পদ্মা সেতু, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ইত্যাদি ইস্যুকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। এই চলমান সহিংসতায় যে সংঘাত, সংঘর্ষ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে তা এই গণতান্ত্রিক দেশে একেবারেই কাম্য নয়। তাই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আগেই ব্যবস্থা নেয়া। আজ জনমনে শুধু আতংক বিরাজ করছে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সারাদেশের জনগণ। আমরা এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। আমরা চাই প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের স্বার্থ এবং ক্ষমতার কথা ভুলে গিয়ে দেশের সাধারণ জনগণের কথা চিন্তা করে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চায় নিমজ্জিত হবে। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সবাইকে উদার ও ত্যাগের নীতি অবলম্বন করতে হবে। উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিই পারে চলমান সংঘাতকে মোকাবেলা করে সকল সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড ও জনমনের আতংক দূর করতে। তানজিনা সুলতানা রিক্তা, ৩য় সেমিস্টার, বিবিএ, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ---- ভালবাসতে শিখুন দেশ ও দেশের মানুষকে আমাদের দেশের সকল রাজনৈতিক দল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নামে দিনে দিনে দেশটাকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারের দিকে। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তার সমস্ত ব্যর্থতার দায়ভার তুলে দিতে চায় বিরোধী দলের ওপর। যখন বিরোধীদলে যায় তখন উঠে পড়ে লাগে সরকার ভাল মন্দ কোন কাজই যেন করতে না পারে। আমরা জানি সরকার কাজ করবে দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য, বিরোধীদল কাজ করবে দেশ ও জাতির পাওনা পুরোপুরি আদায় করার জন্য, কিন্তু আমাদের এখানে পুরোই উল্টো। কোন দলই জনগণের জন্য ভাবে না সবাই ক্ষমতায় যাবার জন্য মরিয়া। হিংসা-প্রতিহিংসা, প্রাণ যত ঝরে ঝরুক রক্ত যত পড়ে পড়ুক চাই শুধু ক্ষমতা, এটাই যেন শাসকদের বাসনা। বড় দুঃখ লাগে রাজনৈতিক নেতাদের অবোধের মত কথা শুনে। তাদের কথা শুনে মনে হয় এদেশের জনগণ কিছুই বোঝে না। আজ রাজনৈতিক প্রভাবে গণমাধ্যমগুলো হারাতে বসেছে নিরপেক্ষতা। হারিয়ে যেতে বসেছে গণতন্ত্র নামক শব্দটার অর্থ। গণতন্ত্রের নামে দেশ ও জনগণের উপর চালানো হচ্ছে তাণ্ডব। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে ঘন মেঘের গর্জন থেকে অচিরেই হবে বর্ষণ। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য ঠিক করা হবে কালোব্যাচ পরে মোম জালিয়ে স্মরণ করার মত একটা অধ্যায়। আমাদের শাসকদের বলবো একবার তাকিয়ে দেখুন ভেনেজুয়েলার দিকে রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুতে কাঁদছে পুরোদেশ। রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি অনুরোধ, হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি বাদ দিয়ে আসুন দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত করুন গণতন্ত্র। আর মরতে দিয়েন না কোন বিশ্বজিতকে, মরতে দিয়েন না কোন সাগর রুনীকে, অকালে ঝরে যেতে দিয়েন না কোন তানভীরকে ...। আলোচনায় সমালোচনায় করুন দেশের উন্নয়ন। ভালবাসতে শিখুন দেশ ও দেশের মানুষকে। যে জাতি ভাষার জন্য জীবন দিতে পারে তারা ভালবাসার প্রতিদানও দিতে জানে। আহম্মেদ জুবায়ের আল ইমরান, ইউনিভার্সিটি ঃ বিইউবিটি, বিবিএ (শেষ বর্ষ)। ---- উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতে হলে সবার মন উদার হতে হবে এখন বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, এই অবস্থার সাথে উদারতার কোন সখ্য নেই। রাজনীতি করতে হলে অবশ্যই উদার হতে হবে। কিন্তু কয়জন রাজনীতিবিদ আছেন উদার মনের অধিকারী? কেও কাওকে ছাড় দেন না বা দিতে চান না? এ কেমন রাজনীতি? বিশ্বের রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় উদারতা কাকে বলে। আমাদের বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের যে কাজে ক্ষমতা দেয়া হয়, সেই কাজ কতটা নির্ভুলভাবে করতে পেরেছেন তারা? সবাই ক্ষমতা নিয়ে ব্যস্ত। দেশ ও দেশের মানুষ গোল্লায় যাক!!! কোন রাজনীতিবিদদের দেখা যায় না অপর বা বিরোধী কোন রাজনীতিবিদকে ছাড় দিয়ে কথা বলতে। যে যাকে যেভাবে পারে অপমান করছেন। এটা একটা স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক অবস্থা হতে পারে না। এককভাবে রাজনীতি করলে সেটাকে রাজনীতি বলে না। রাজনীতি করতে বা ক্ষমতায় যেতে হবে প্রতিযোগিতায়। তাইলেই বুঝা যাবে কে কতটা জনপ্রিয়। শুধু ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি করতে হবে, দেশ ও দেশের মারুষের জন্য এবং অবশ্যই অপরের প্রতি সহমর্মিতাশীল হতে হবে। ছোট্ট একটা কথা বলে শেষ করছি, সপ্তদশ শতাব্দীর চিন্তাবিদ টমাস হবস্ ১৬৫১ খ্রিস্টাব্দে তার (লেভিয়াথান) গ্রন্থে বলেছেন, মনব জাতির মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা হলো এই যে, সে ক্ষমতার পর ক্ষমতা পাওয়ার চিরন্তন ও বিরামহীন কামনা পোষণ করে যা একমাত্র মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়। কবির খন্দকার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।