মির্জাপুরে নদীর বুক থেকে বালি, পাড় থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৫৫
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উত্তরে বংশাই এবং দক্ষিণে লৌহজং নদী থেকে প্রভাবশালী একটি চক্র অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও মাটি কেটে নিচ্ছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালি ও মাটি চুরি করে ঐ চক্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত । নদীর তীর কাটার ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, বাজার , মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন ঐ চক্র ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে এবং লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দিনে-রাতে মাটি চুরি করে নিচ্ছে। মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করা হলেও উল্টো তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। কয়েকদিন আগে বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়ী আদাবাড়ি বাজার, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, ত্রিমোহন, কোদালিয়া, হাটুভাঙ্গা ও আজগানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ঐ চক্রের লোকজন নদীতে ড্রেজার ও ভোকু বসিয়ে শত শত ট্রাক বালি ও মাটি নিয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা দেখা গেলো লৌহজং নদীর মাঝালিয়া বাজার সংলগ্ন ধানকি ,গুনটিয়া, চুকুরিয়া, উফুলকি, বরাটি, ইচাইল, পুষ্টকামুরি, বাইমহাটি, বহুরিয়া এবং নাগরপাড়া এলাকায়। মাটি চুরির ফলে বংশাই নদী এলাকার আশপাশের ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাজার, আদাবাড়ি বাজার, ত্রিমোহন বাজার ও রাস্তা, হাটুভাঙ্গা বাজার,ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাটুভাঙ্গা ব্রিজ এবং লৌহজং নদীর গুনটিয়া ব্রিজ, গুনটিয়া বাজার ও মাঠ, মাঝালিয়া বাজার, বরাটি উচ্চ বিদ্যালয় ও বাজার, কুমুদিনী হাসপাতাল-মেডিক্যাল কলেজ, বহুরিয়া বাজার, গেরামারা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাজার এবং নাগরপাড়া বাজার হুমকির মুখে পড়েছে বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়, মসজিদ এবং বাজার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রভাবশালী চক্র ভূমি অফিসের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে মাটি চুরির জমজমাট ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ভূমি অফিসের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী মাটি চোরদের সঙ্গে জড়িত নয়। মাটি চুরি বন্ধ এবং ঐ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য এ পর্যন্ত ১০/১২ টি মামলা করা হয়েছে ভূমি অফিস থেকে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত কয়েক লাখ টাকা জরিমানা আদায়ও করা হয়েছে । এদিকে এলাকার লোকজন মাটি চোরদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ এনামুল কবীর বলেন, আইন অমান্য করে যারা মাটি কেটে বিক্রি করছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।