নওগাঁর রাণীনগরে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রামের কতিপয় মাতব্বরা ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কালীগ্রাম ইউনিয়নে।
গ্রাম্য মাতব্বর ও চেয়ারম্যানের কাছে সুবিচার না পাওয়ার ভুক্তভোগী দুই সন্তানের জননী গত শুক্রবার অভিযুক্ত বিষুকে প্রধান আসামি করে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে মামলা দায়ের পর পুলিশ এখনো কোন আসামিকে আটক করতে না পারায় সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন একই গ্রামের হিন্দুপাড়ার দুই সন্তানের জনক বিষু সরকার ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব এবং নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় গৃহবধূর ছেলে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘরের বাইরে যান। এসময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিষু গৃহবধূর শোবার ঘরে প্রবেশ করে লুকিয়ে থাকেন। পরে ছেলে ও মেয়ে মাটির বাড়ির দোতলায় পড়ার জন্য উঠে গেলে বিষু অতর্কিতভাবে গৃহবধূর মুখ ও দুই হাত চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: ‘রাম’ ধ্বনি শুনে যুবকদের ধাওয়া করলেন মমতা
আরও জানা যায়, তখন গৃহবধূ কৌশলে ঘরের বাইরে এসে দরজা বন্ধ করে চিৎকার শুরু করেন। এসময় আশেপাশের মানুষ ও গ্রামের মাতব্বররা এসে সকালে বিচার হবে বলে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়। সুবিচার পাওয়ার আশায় বিষয়টি গৃহবধূ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানান। আজ-কাল বিচার হবে বলে চেয়ারম্যান ও মাতব্বররা কালক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে গৃহবধূ বাদী হয়ে বিষুকে প্রধান আসামি করে স্থানীয় ইউপি সদস্য গফুরসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
অপরদিকে ঘটনার পর থেকে বিষু সরকার পলাতক থাকার কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয় নাই। তিনি কোথায় আছেন তাও বলতে পারেন না বিষুর পরিবারের সদস্যরা।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমিও অর্থের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করার ব্যাপারে শুনেছি। আমি দ্রুত বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
