সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের উর্ধ্বমুখী সমন্বয় আবশ্যক

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৩, ২১:২৭
মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ হইতে জানা যায় যে, সরকারের সঞ্চয়পত্রের বিক্রয় অনেক কমিয়া গিয়াছে। আগের বত্সরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থ বত্সরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্রের প্রকৃত বিক্রয় আগের বত্সরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নামিয়া আসিয়াছে বলিয়া জানা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রয় হওয়া সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে এই সময়ের আগে বিক্রয় হওয়া সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করার মাধ্যমে গ্রাহকদের মূল টাকা ফেরত দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাহাকেই নিট বা প্রকৃত বিক্রয় বলা হয়। বর্তমান অর্থবত্সরের প্রথমার্ধে প্রকৃত বিক্রয় কমিয়া গিয়াছে। কমিয়া যাওয়ার মূল কারণ যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র নূতন করিয়া বিক্রয় হইয়াছে তাহা হইতে অনেক বেশি পরিমাণে পুরাতন সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গানো হইয়াছে কোন কোন মাসে। সঞ্চয় পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাহারো কাহারো মতে এমনটি ঘটার আসল কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ থাকায় অনেকেই সঞ্চয় ভাঙ্গিয়া তাহা জীবন যাত্রার ব্যয় মিটানোর কাজে লাগাইতেছেন। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের সুদের হারের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কম বলিয়া এইসবের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমিয়া গিয়াছে বলিয়া তাহারা দাবি করেন। তবে কারণ যাহাই হউক না কেন তাহা খুঁজিয়া বাহির করিয়া সরকারের ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এই খাত হইতে বেশি পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ করার জন্য। সাধারণ মানুষ যে সঞ্চয় করেন তাহার বেশিরভাগই চলিয়া যায় ব্যাংকিং খাতে আমানত হিসাবে। একটা ছোট অংশ যায় শেয়ার মার্কেটে ও সঞ্চয়পত্রে। আরেকটা অংশ বিভিন্ন ছোটখাট বিনিয়োগে। তবে সরকারের জন্য অনেকটা কম খরচে অর্থ ধার করার উপায় হইলো সঞ্চয়পত্র বিক্রয়। সঞ্চয়কারীর সঞ্চয় ব্যাংকিং চ্যানেলে চলিয়া গেলে এবং সেখান হইতে সরকারকে ধার করিতে হইলে খরচ অনেক বাড়িয়া যায়। তাই সরকারের উচিত সঞ্চয়পত্রের বিক্রয় কমিবার কারণ অনুসন্ধান করা। আমরা জানি গত কয়েক বত্সর আগে সরকার সঞ্চয়পত্রের উপর সুদের হার কমাইয়াছে। সঞ্চয়পত্রের আয়ের উপর করারোপ করিয়াছে। এই সবের প্রভাব অবশ্যই পড়িয়াছে সঞ্চয়পত্রের দীর্ঘমেয়াদী বিক্রয়ের ওপর। বিনিয়োগের হাতিয়ার হিসাবে সঞ্চয়পত্র আকর্ষণ হারাইবার একটা কারণ ছিলো শেয়ার মার্কেটে বুঁদবুঁদ তৈরি হওয়া। এখন শেয়ার মার্কেট আস্থাহীনতায় ভুগিতেছে বলিয়া সঞ্চয় সেদিকে আর যাইতেছে না। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়া যাওয়ায় ও কারারোপ করায় সঞ্চয় সেদিকে যাওয়াও কমিয়া যাইতেছে। একমাত্র পথ খোলা ব্যাংকিং খাতে আমানত হিসাবে এই সঞ্চয় রাখা। সঞ্চয় বিনিয়োগ করার বিকল্পগুলো কম আকর্ষণীয় হইয়া যাওয়ার কারণে সঞ্চয়কারী তাহার সঞ্চয় হইতে কম সুবিধা পাইবে। অর্থাত্ সঞ্চয়ের উপর যে সুদ তাহার পরিমাণ কমিয়া যাইবে। ব্যাংকিং চ্যানেল যখন দেখিবে সঞ্চয়কারী তাহাদের কাছে আসিতে বাধ্য তখন আমানতের উপর সুদের হার আরো কমাইয়া দেওয়ার সুযোগ পাইবে। বর্তমানে ব্যাংকগুলির আমানত ও ঋণের সুদের হারের মধ্যে যে বড় ফারাক তাহার একটা কারণও হয়তোবা আমানতকারীর বেকায়দা। অন্যদিকে বিকল্প না থাকায় বিনিয়োগকারীর ব্যাংকের কাছে যাইতে বাধ্য হওয়া। তাই সরকারের উচিত সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সমন্বয় করিয়া সঞ্চয়পত্রকে বিনিয়োগের হাতিয়ার হিসাবে প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকার ব্যবস্থা করা।