একটা গান আমাদের ভালো লাগলে সেই গানের শিল্পী, গীতিকার কিংবা বাদ্য দলটিকে নিয়ে মেতে উঠি আমরা। কিন্তু কখনও এর পেছনের মানুষগুলোর কথা আমাদের মনে থাকে না। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হলো এমনই একজন পেছনের মানুষ। গানের জগতে এই প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের অনেক জায়গাই তরুণ প্রজন্ম এই কাজে বেশ ভালো প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন। এমনই কিছু মেধাবী তরুণ-তরুণী নিয়ে আয়োজনটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
অ্যা ন্ড্রি উ জ্যা ক স ন
তাকে র্যাপার অব দ্য ইয়ার উপাধিটি দেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালে। র্যাপ ও রক টাইপের গান করতেন তিনি। কিন্তু তার প্রথম পরিচয়টি হলো সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের। রক ব্যান্ডের সাথে কাজ করার সময় ২০১১-এর ডিসেম্বরের প্রথমভাগে তার আরও একটি অ্যালবাম মুক্তি পায়, মাডি ওয়াটারস নামে। তার এই অ্যালবামের দুটি গান বিলবোর্ডের হট গানের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। ‘ইটস লাইক দ্যাট’ এবং ‘ডু হোয়াট ইউ ফিল’ গান দুটি শুধু বিলবোর্ডেই ছিল না, সেই গানদুটি এত বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে সেখান থেকে গেমও তৈরি করা হয়েছিল। গ্রান্ড থেফট অটো গেমসের লিবার্টি সিটি স্টোরিস নামের গেমটিতে এই গান ব্যবহার করা হয়েছিল।
----
অ স্টি ন
সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচিত, তবে মাঝে মাঝে গানও করেন তিনি। বেশিরভাগ সময় হিপ হপ সংগীত নিয়ে মেতে থাকেন তিনি। প্রতিভাবান অস্টিনের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াটসে। ২৬ সেপ্টেম্বর জন্ম নেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম হলেও সেখানে বেশিদিন ছিলেন না তিনি। তার বাবা-মা কোরিয়ান। ঢুকে পড়েন গানের জগতে। তিনি একবার ‘দ্য সোর্স’ ম্যাগাজিনের হয়ে কাজ করেছিলেন। একসময় জড়িয়ে পড়েন রেকর্ডিংয়ের সাথে। পাশাপাশি শুরু করেন রেডিওতে কাজ করা। রেডিওতে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় বিভিন্ন বড় বড় আর্টিস্টদের সাথে। সেখান থেকেই শুরু, আজ তিনি একজন জনপ্রিয় সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের সারিতে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন।
----
অ্যা নি এ লি স ন
ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ব্যান্ড দল নিয়ে থাকতেন সব সময়। কিছু সময় পেলেই নিজের গান নিয়ে মেতে উঠতেন। একসময় শেষ হলো তার পড়াশোনা। তিনি ভেবেচিন্তে বের করলেন পেশা হিসেবে কী বেছে নেওয়া যায়? হঠাত্ করেই তার মনে হলো গানের ভুবনটি তাকে বেশ টানে। গান ছাড়া থাকতে পারবেন না তিনি। সুতরাং বেছে নিলেন গানকেই। বাবা-মাকে জানালেন তার ইচ্ছের কথা। তারাও আপত্তি করল না। বরং আরও উত্সাহ দিলেন তাকে। বিভিন্ন মিউজিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ করলেন তিনি। অ্যাবাউট ডট কম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধানও পেলেন। সেখান থেকে শুরু করলেন তার মিউজিক্যাল ক্যারিয়ারটি। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
----
মাই কে ল গ্রি ফি ন
পুরো নাম ইউলিয়াম মাইকেল গ্রিফিন। আমেরিকান পপ সং আর্টিস্ট হিসেবে খ্যাতি পাওয়া এক ব্যান্ডের সাথে কাজ করেন তিনি। খুব ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল মিউজিক নিয়ে কাজ করবেন। মায়ের হাত ধরে তার প্রথম গান শেখা। তারপর সেটা পরিণত হয় নেশায় এবং একপর্যায়ে পেশায়। আর আজ তিনি বাবা-মায়ের মুখ উজ্বল করে একজন সফল মানুষ। তার বেশ কিছু ক্লাসিক্যাল অ্যালবামও আছে। ‘দ্য গ্রেট মিউজিক রাইটার অব অল দ্য টাইম’ হিসেবে মনোনীত করাও হয়েছে তাকে। সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসা তাকে ক্রমে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার করে তোলে। পরে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে একটু একটু করে উঠে এসেছেন আলোর শিখরে।
----
আ র্ল স কা র্ট
১৯৬৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বরে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুটে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। অবশ্য সেখানেই বেড়ে ওঠেননি তিনি। টিনএজ বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে চলে আসেন এবং সেখানে হার্টউড হাউজ নামের একটি স্কুলে ভর্তি হন। খুব ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর সংগীতই ছিল তার একমাত্র সাথি। একসময় এই সংগীতই হয়ে উঠে তার বন্ধুর মতো। অল্প বয়সেই শুরু হয় তার ক্যারিয়ার। ক্যারিয়ারের শুরুটা করেন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। ১৯৭৭ সালে দ্য বাগলস নামে একটি ব্যান্ডের সাথে কাজ দিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর তিনি ইতালিয়ান ব্যান্ড ক্রিশমা, পরবর্তীতে হেলডেন এবং এরপর ১৯৮৪-তে স্পেনের মেকানো ব্যান্ডের সাথে কাজ করেন।
