গল্প নয় সত্যি

মিথ্যা প্রচারণার শাস্তি!

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ১৯:২৭
বিজ্ঞাপন আর প্রচারণার এই যুগে কতজনই তো তাদের পণ্য নিয়ে কত ধরনের দাবি করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের পক্ষে সেসব বিজ্ঞাপনী দাবী যাচাই করে দেখার সুযোগ হয় না। এমনকি এসব বিষয় নিয়ে অধিকাংশ সময় উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় না পণ্যের মান নিয়ে কাজ করা জাতীয় সংস্থাগুলোকেও। তবে এ ধারার ব্যতিক্রম হিসেবে সম্প্রতি আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথোরিটি বা এফডিএ’র একটি সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এনেছে তথাকথিত বিজ্ঞাপন আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চটকদার দাবির বিষয়টিকে। আমেরিকার নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের মন্টক্লেয়ারে অবস্থতি একটি বেকারির দাবি করা সুগার ফ্রি ও ফ্যাট ফ্রি পণ্যে অনুমোদিত মাত্রার চাইতেও বেশি চিনি বা সুগার এবং ফ্যাটের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার সম্প্রতি বেকারিটি বন্ধ করে দেওয়ার মতো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এফডিএ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আমেরিকার অন্য অনেকে বেকারির মতোই মন্টক্লেয়ারের ক্লিফটন শহরে অবস্থিত বাটারফ্লাই বেকারি ইনক নামের এই প্রতিষ্ঠানটি ‘সুগার ফ্রি’ ও ‘ফ্যাট ফ্রি’ লেবেল ব্যবহার করে তাদের পণ্যের প্রতি স্বাস্থ্য সচেতন ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে আসছিল। এ ধরনের পণ্যের বিক্রি-বাট্টাও নেহাত মন্দ ছিল না। কিন্তু বাটারফ্লাই বেকারির এই রমরমা ব্যবসায় বাধ সাধে এফডিএ’র একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির আলোচিত ‘সুগার ফ্রি’ ও ‘ফ্যাট ফ্রি’ পণ্যগুলো যাচাই করে দেখা যায়, ‘সুগার ফ্রি’ বলে তারা যে পণ্যগুলো বিক্রি করছেন সেখানে সুগার বা চিনির ঘোষিত পরিমাণের চাইতেও তিনগুণ বেশি চিনির উপস্থিতি রয়েছে। অন্যদিকে ‘ফ্যাট ফ্রি’ বলে দাবি করা পণ্যগুলোতেও ঘোষিত পরিমাণের চাইতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের উপস্থিতি ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। এ প্রসঙ্গে এফডিএ’র মুখপাত্র তামারা ওয়ার্ড রয়টার্সকে জানান, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথোরিটির পক্ষ থেকে নানা সময়ে এই বেকারিটিকে সতর্ক করে দিলেও তারা নিজেদের ভুল সংশোধন করতে ব্যর্থ হন এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে এফডিএ। এদিকে বাটারফ্লাই বেকারির পক্ষ থেকে তাদের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে যে, তারা গত দুই বছর ধরেই এফডিএ’র নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন এবং সবশেষ পরীক্ষায় তাদের উত্পাদিত ৪৫টি পণ্যের মধ্যে মাত্র তিনটিতে এ ধরনের সমস্যা ছিল। এদিকে বাটারফ্লাই বেকারির এই ঘটনাটি এ ধরনের পণ্য বিক্রি করা অন্য সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এফডিএ।