ছোট্ট একটি সেতু বদলে দিতে পারে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার (বৃহত্তর পাংশা) অর্থনীতির চালচিত্র। উপজেলার রতনদিয়া ইউপির গঙ্গানন্দাপুরের হিরু মোল্লাঘাট এলাকায় একটি সেতুর অভাবে ওই অঞ্চলের কৃষিনির্ভর ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের উত্পাদিত কৃষিপণ্য বহন ও বাজারজাতকরণে প্রতিনিয়ত চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কালুখালী উপজেলা, অন্যদিকে এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। এছাড়া সেতুটি নির্মিত হলে পার্শ্ববর্তী পাবনা জেলার সাথে এ অঞ্চলের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাও তৈরি হতো।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হরিণবাড়িয়া, মাধবপুর, কেষ্টনগর, বিজয়নগর, লস্করদিয়া, হরিণাডাঙ্গা, ভবানীপুর, বগুলপুরসহ ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের উপজেলা শহরে আসা- যাওয়ার একমাত্র রাস্তা মোল্লাঘাট। প্রতিদিন এ ঘাট এলাকা দিয়ে একটি মাত্র নৌকায় করে পার হয়ে উপজেলা শহরে আসা-যাওয়া করছে শত শত মানুষ। ইতিপূর্বে একাধিক দলের নেতারা হিরু মোল্লাঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ অবধি তাদের ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে কেউই এগিয়ে আসেনি। দুর্গম চরাঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার জন্য কোন উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় ওই এলাকার শত শত শিক্ষার্থীকে অমানবিক কষ্ট স্বীকার করে উপজেলা শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আসতে হয়। ফলে প্রাথমিক পর্যায়েই ঝরে পড়ে শত শত শিক্ষার্থী। তাছাড়া দুর্গম চর এলাকায় শিক্ষার হার তুলনামূলক অনেক কম হওয়ায় নানা কুসংস্কার ও বাল্যবিয়ে দিন দিন বেড়েই চলছে। সাপ্তাহিক বাজার বুধ এবং বরিবার অন্যদিনের তুলনায় পারাপারের লোক বেশি থাকায় নৌকার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের। ওই এলাকায় একটি সেতু এখন ২০ গ্রামের মানুষের প্রাণের দাবি।
