সিরাজগঞ্জে ১৪ বছরেও শেষ হয়নি তাঁত বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২০:২৫
সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পাঞ্চলের একমাত্র রাসায়নিক বর্জ্য শোধনাগার ( ইটিপি) প্রকল্পটি ১৪ বছরেও চালু হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের ঔদাসীন্য আর দুর্নীতির ফলে সিরাজগঞ্জ তামাই তাঁত শিল্পাঞ্চলের এ প্রকল্পটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় ১ যুগ ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বর্তমানে অর্ধ নির্মিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এ তাঁত বর্জ্য শোধনাগারটির অন্যান্য অংশও বিনষ্ট হচ্ছে । এই প্রকল্প নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ মাসোহারার টাকা আদায়ের জন্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এই প্রকল্পটি চালু করছেন না। জানা গেছে তাঁত শিল্পের বর্জ্য শোধনে সারাদেশে মাত্র ২টি ইটিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। একটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায়, অপরটি সিরাজগঞ্জের তামাই গ্রামে। বেলকুচি উপজেলার তামাই এলাকাটি সিরাজগঞ্জ জেলার বৃহত্তম একটি তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল। এলাকার ১৩টি বৃহত্ ডায়িং ও প্রসেস মিলের শত শত মণ রাসায়নিক বর্জ্য শোধনের লক্ষ্যে ২০০৪ সালে ইউএনডিপির অর্থায়নে এই প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ক্ষুব্ধ জনতা ইতিমধ্যেই এলাকার কয়েকটি প্রসেসিং ও ডায়িং মিল বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু কি কারণে এ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলো না পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তার কাছ থেকেই এর কোন সদুত্তর মেলেনি। আর কিভাবে ঠিকাদার কাজটি অসর্ম্পূণ রেখে হস্তান্তর না করেই সমুদয় বিল তুলে নিয়েছেন এটি রয়ে গেছে এখনো রহস্যাবৃত। এলাকার অনেক ডায়িং ও প্রসেস মিল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব বর্জ্য শোধনে পাইপ লাইন স্থাপন করেছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালে সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে তাঁত শিল্পের বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য শোধনে ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। সর্বশেষ তামাই হাইস্কুল মাঠে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ মিটিং হয়। সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এই প্রকল্পটি নিয়ে খুবই তোপের মুখে পড়েন। এ নিয়ে কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় এই নিয়ে সেখানে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। এই প্রকল্পটি চালুর দাবিতে উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল হক খান, ডায়িং মিল মালিক রেজাউল করিম, ভূমির মালিক ফজলুর রহমান ২০০৮ সালের ২ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ইউএনডিপি কান্ট্রি ডিরেক্টর বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগে নিম্নমানের কাজের কথা উল্লেখ করত কাজের বিষয়টি তদন্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা প্রতি মাসে মাসে প্রসেসিং ও ডায়িং মিল প্রতি ৫ থেকে /১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসোহারা নিয়ে থাকেন। অনেকে বলছেন প্রকল্পটি চালু হলে মাসোহারা বন্ধ হবে এই কারণে প্রকল্পটির ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর রয়েছে নিশ্চুপ আর নির্বিকার। এলাকার এস,ই মার্চেন্ডাইজ মিলের ম্যানেজার আব্দুস সালাম অভিযোগ করে জানান, মাসে মাসে টাকা না দিলে পরিবেশ বিভাগ থেকে তাদের নামে নানা ধরনের চিঠি ইস্যু করা হয়।