‘গড়তে দেশ পড়বো বই, জ্ঞানের আলোয় দীপ্ত হই’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ১০ দিনব্যাপী উদ্বোধন হলো শিশু একাডেমীর বইমেলার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এই বইমেলার আয়োজন করা হয়। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
গতকাল রবিবার বিকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত একাডেমী প্রাঙ্গণে এই বইমেলার উদ্বোধন হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার শিশুদের বিষয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। ১৯৭৪ সালের শিশু আইন আবার সংস্কার করা হচ্ছে। পথশিশু, বিশেষ শিশু থেকে শুরু করে সকল শিশুর সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে। শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাইরের জগত্টাকে জানতে হলে অবশ্যই পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্য সব বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি, আমরাও বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শকে যুগ যুগ ধরে ধারণ করবো।
শিশুদের সুখবর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমী থেকে তোমাদের জন্যে ২৫টি বই প্রকাশ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে, বাকিগুলোও শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।
উদ্বোধনী দিনেই শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। আয়োজকরা আশা করছেন আগামী ৯ দিনও শিশু-কিশোরদের পদচারণা থাকবে শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণে। এ বই মেলা কেবল শুধু পছন্দের বই দেখা ও কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মেলায় থাকছে শিশুদের জন্য নানা আনন্দময় আয়োজন। যেমন—শিশুরা হঠাত্ উচ্ছ্বসিত হয়ে চিত্কার দিয়ে উঠবে তাদের প্রিয় চরিত্র সিসিমপুরের হালুম ও টুকটুকিকে তাদের পাশেই ঘোরাফেরা করতে দেখে। শহীদ মতিউর মুক্তমঞ্চে প্রতিদিনের নির্ধারিত আলোচনা, ছড়া-কবিতা পাঠ, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আনন্দ দেবে শিশুদের। মেলায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শন শিশুদের আগ্রহকে বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। এবারই প্রথমবারের মতো থাকছে প্রিয় লেখকের সাথে আড্ডা। খুদে পাঠকদের সাথে আড্ডা দেবেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক প্রমুখ।
শুধু শিশুতোষ বইয়ের ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের ৬২টি স্টল রয়েছে এ মেলায়। সেগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে রূপকথার গল্প, ছড়া, কমিক্স, ঠাকুরমার ঝুলি, কৌতুকের বই, গণিতের মজা, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীসহ নানান জাতের শিশুতোষ বই। শতকরা ২৫ শতাংশ ছাড়ে মেলা থেকে বই কেনা যাবে। তবে ৫০০ টাকার বেশি বই কিনলে কমিশনের হার নির্ধারণ হবে শতকরা ৩০ শতাংশ। মেলায় পাইরেট ও ভিন্ন সংস্কৃতির বই যেমন-ডোরেমন বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মেলা চলবে প্রতি কর্মদিবসে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা এবং ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় শিশু একাডেমী বইমেলা। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালেও মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ-এর সভাপতিত্বে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক হাসেম খান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আ.ই.ম. গোলাম কিবরিয়া, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমদ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু একাডেমীর পরিচালক মো. নূরুজ্জামান।
