খালেদা জিয়ার মন্তব্যের নিন্দা ১৫ ছাত্র সংগঠনের

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৮
সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। মঞ্চের ছয় দফার পক্ষে সর্বস্তরের জনতার গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি চলছে। এদিকে মঞ্চ সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার মন্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন মঞ্চের সহযোগী সংগঠক ছাত্রলীগসহ ১৫টি ছাত্র সংগঠনের নেতারা। গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে এক সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চকে ‘নষ্ট ছেলে’, ‘আওয়ামী লীগ ঘরানার’ ও ‘নাস্তিকদের’ আন্দোলন বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে ছাত্রনেতারা বলেন, দেশের ৫ কোটি তরুণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, জাগরণ ঘটিয়েছে নৈতিকতার, নির্মাণ করেছে উন্নত সংস্কৃতি। এর সাথে দেশের সকল শ্রেণি-পেশা-ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষ একাত্ম হয়েছে। এ সমস্ত মানুষ যদি নষ্ট হয় তাহলে দায়িত্বশীল বিরোধীদলীয় নেত্রীর কাছে ‘ভাল’ তরুণ কারা? দেশের তরুণ সমাজ একথা জানতে চায়। নেত্রীর দুই পুত্র দুর্নীতি-লুটপাট -অর্থ পাচারকারী, তারা যদি ভাল হয় তাহলেই অন্য সব তরুণ যারা দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে তাদের ‘নষ্ট’ বলতে পারেন। তারা বলেন, যদি ৭১ সালে যারা পাকিস্তানিদের দোসর হয়ে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, আড়াই লাখ মা-বোনকে ধর্ষণকারী যুদ্ধাপরাধীরা ভাল হয়, তাহলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সংগঠিত তরুণরা নষ্ট হতে পারে। যে জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসীরা ৭১-এর মত বর্তমানেও নিরীহ মানুষের হাত-পায়ের রগ কাটছে, নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে, মসজিদ-মন্দির-বসতবাড়িতে হামলা করছে তারা যদি ভাল হয়, তাহলেই অন্যসব তরুণরা নষ্ট হতে পারে। বিবৃতিদাতারা হলেন:ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন আহম্মদ তফসির ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম সুমন, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি এসএম শুভ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান তারেক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুসমত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি সাইফুজ্জমান সাকন ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি প্রবীর সাহা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আল জাহিদ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী সভাপতি আব্দুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল রায়, ছাত্রঐক্য ফোরাম আহ্বায়ক সোহান সোবাহান ও যুগ্ম-আহ্বায়ক কাব্য করিম, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন সভাপতি মঞ্জুর রহমান মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল শিকদার, বাংলাদেশ ছাত্র সমিতি আহ্বায়ক জাহেদুর রহমান খান ও যুগ্ম-আহ্বায়ক সালমান খান, বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্র সংহতি সভাপতি মীর রেজাউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাসেল, গণতান্ত্রিক ছাত্রকেন্দাসী ছাত্র পরিষদ সভাপতি উপেন রবিদাস ও সাধারণ সম্পাদক সভাষ চন্দ হেমব্রম, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ সভাপতি ত্রিজিদাদ চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক জ্যোতিষ্মান চাকমা বুলবুল এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি পারি চিং থাম ও সাধারণ সম্পাদক অনন্ত ধামাই ।