সরকার রাজধানীতে ৩৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ গার্মেন্টস কারখানা চিহ্নিত করেছে। এর অধিকাংশই পুরোনো ঢাকার। এগুলো যে কোন সময় ধসে পড়ে বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে গঠিত একটি কমিটি দ্রুত কারখানাগুলোকে রাজধানী থেকে সরিয়ে বাইরে নিয়ে যাবার পরামর্শ দিয়েছে। এ ৩৩৪টি কারখানা আটটি নিয়ম মানেনি বলে কমিটি মনে করে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্ঘটনার পর সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের দিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটিকে রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর তালিকা তৈরি করতে বলা হয়। সরকারের এ কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স-এর পরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি রাখা হয়। সম্প্রতি কমিটি তাদের রিপোর্ট দাখিল করেছে। কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর বেশিরভাগই পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশেরই সিঁড়ি সরু। আবার বেশ কয়েকটির অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নেই। কমিটি বলেছে, এসব কারখানা তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ কিংবা বিকেএমইএ’র সদস্য নয়। কারখানাগুলোর অধিকাংশেরই শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ জনের নীচে। এসব কারখানা সরিয়ে না নিলে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে কমিটি মনে করে।
কমিটি নিশ্চিত হয়েছে যে, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর প্রায় সবাই বড় বড় গার্মেন্টস কারখানার সাব কণ্ট্রাক্টের কাজ করে। কারখানার ভবনগুলোর একটিরও রাজউকের অনুমোদন নেই। এছাড়া কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশও নেই। কমিটির একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, কারখানাগুলো মৃত্যুফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়।
