ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে এক দশক ধরে

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৮
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা এবারই প্রথম ঘটেনি। গত দশ বছর ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছে। শতভাগ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরবরাহের কথা বলে সিন্ডিকেটটি ৪০ ভাগ সরবরাহ করে বিদেশ থেকে। বাকি ৬০ ভাগ দেশীয় নিম্নমানের ও ভেজাল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ করে আসছে। এভাবে সিন্ডিকেটটি কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক গতকাল রবিবার বলেন, আজ সোমবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে আসতে পারে। রিপোর্ট পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে ওই সিন্ডিকেট শনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) কিছু কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেটটি গত ১০ বছর ধরে একচেটিয়াভাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহ করে আসছে। সিন্ডিকেটের কোটি কোটি টাকার ভাগ বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার পকেটেও যায়। এছাড়া দরপত্র প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কমিটিসমূহের কিছু কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে টাকার ভাগ একইভাবে পৌঁছে যায়। এ বছর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহের কাজটি ওই সিন্ডিকেটের হাতছাড়া হয়ে যায়। ফাঁস হয়ে যায় তাদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের পুকুরচুরির ঘটনা। মূলত দরপত্রের মাধ্যমে যে বিদেশি কোম্পানি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহের কাজ পায়, তাদের এ দেশীয় এজেন্টরাই সিন্ডিকেটের সদস্য। বিভিন্ন বছর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ক্যাপসুলের ৪০ থেকে ৫০ লাখ ক্যাপসুল ঠিকই বিদেশ থেকে আনা হয়। বাকি ক্যাপসুল এ দেশীয় নিম্নমানের ও ভেজাল ক্যাপসুল বিদেশি কোম্পানির কৌটা ও লেভেল লাগিয়ে সরবরাহ করে থাকে। এ বছর এই সিন্ডিকেটের হাত হয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহের জন্য মনোনীত হয়েছে ভারতীয় অলিভ হেলথ কেয়ার কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫১ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে সরবরাহ করে। বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, এ বছর তিনটি প্রতিষ্ঠানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল তাদের কাছে কেন্দ্রীয় ওষুধাগার থেকে সরবরাহ করা হয়। এরমধ্যে এক কোটি ৫৭ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ছিল কানাডার ব্যানারের তৈরি। মেসার্স এসএস সায়েন্টিফিক কর্পোরেশনের মাধ্যমে ২০১১ সালে ব্যানারের এই ক্যাপসুল কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে সরবরাহ করা হয়। গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি ২৫ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ওই একই বছরে কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে সরবরাহ করা হয়েছিল। ওই বছরের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে ওই দুই কোম্পানির ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ব্যবহার করেও বিপুল পরিমাণ ক্যাপসুল থেকে যায়। এই তিন প্রতিষ্ঠানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গত মঙ্গলবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন দিবসে শিশুদের খাওয়ানো হয়। এ বছর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহের কাজ হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো কার্যক্রম নস্যাত্ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও ই-মেইল পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় গত মঙ্গলবার ভিটামিন ‘এ’ নিয়ে ফেসবুকে ও মাইকিং করে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ব্যাপারে আরো অনুসন্ধান চলছে। নকল ও ভেজাল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল উক্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ওষুধাগার থেকে দেশব্যাপী সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে।