প্রায়ই আমাদের আশপাশে অনেক বাচ্চাই দেখি যারা পেন্সিল কামড়াতে পছন্দ করে। অনেক সময়ই দেখা যায় ইরেজারের টুকরো কিংবা চকের টুকরো খেয়ে ফেলে। আমাদের মধ্যে অনেকেই এই কাজটি করেছি খুব ছোটবেলায়। এর জন্য আমাদের অনেককে মা-বাবার কাছে বকা আর পিটুনিও খেতে হয়েছে। তখন এমনও মনে হয়েছে যে, সামান্য পেন্সিল মুখে দেওয়াতে কেন মা-বাবা এত বকাবকি করছে! আসলে বাচ্চাদের মধ্যে এই ধরনের অচরণ যে খুব অস্বাভাবিক এমনটা কখনই বলা সম্ভব নয়। বেশিরভাগ সময়ই বাচ্চাদের এই ধরনের অভ্যাস স্কুল থেকেই তৈরি হয়। আসলে বাচ্চাদের অনেক ব্যবহারই স্কুলের বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। একটা সময় থাকে যখন বন্ধুরা যা করে তাই ভালো লাগে। বন্ধুদের হয়তো কোনো এক বন্ধুকে স্কুলে কখনও পেন্সিল চিবাতে দেখেছিল, সেই থেকেই তার মধ্যেও এই বদভ্যাসটি তৈরি হয়েছে। পড়াশোনার সময় অথবা কখনও কখনও অন্যমনস্কভাবেও প্রায়ই তারা পেন্সিল অথবা ইরেজার মুখে দিয়ে থাকে। বলা বাহুল্য এই অভ্যাসের জন্য তাদের অনেক ক্ষতি হয়। পেন্সিল চিবালে বাচ্চাদের ওপরের দাঁতে চাপ পড়ে। ফলে অনেক সময় দাত উঁচু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়াও আরও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সবচেয়ে বেশি চিন্তার সমস্যা হলো গ্রাফাইট পয়জনিং। পেন্সিলে গ্রাফাইট বা ক্লের মিশ্রণ থাকে। বাচ্চারা যখন পেন্সিল মুখে দেয় তখন এই সব ক্ষতিকারক পদার্থ তাদের শরীরের ভিতরে চলে যায়। এর বাইরে পেন্সিলের গায়ে রং থাকে সেই সব রং সাধারণত টক্সিক হয়, যা বাচ্চাদের শরীরে গেলে গ্রাফাইটের মতোই ক্ষতি করতে পারে। আর ইরেজারের টুকরো যদি কোনোভাবে পেটের ভিতর চলে যায় তা হলে গ্যাস্ট্রো-ইন্টেসটিনাল সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ইরেজারেই কেমিক্যাল থাকে যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
কী করবেন
যে সব বাচ্চাদের পেন্সিল অথবা চক কিংবা ইরেজার চিবানোর অভ্যাস থাকে তাদের হঠাত্ করেই সেই অভ্যাস ছাড়ানো কখনওই সম্ভব নয়। যেহেতু বাচ্চাদের নিজেদের ভালোমন্দ বোঝার মতো তেমন বিচার বুদ্ধি থাকে না, সে ক্ষেত্রে তাদের অন্যায়, ভুল ও বদভ্যাস শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব মা-বাবার উপরই বর্তায়। তবে তাদের ভয় দেখিয়ে কিংবা মার দিয়ে না বলে, ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে পারলে সেটা কাজে লাগতে পারে। কারণ খুব বেশি বকাবকি করলে বাচ্চারা আরও বেশি জেদি হয়ে যায়। অনেক সময় খুব ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে পেন্সিলের উপরে তিতা কোনো কিছু লাগিয়ে রাখা যেতে পারে। তাতে তারা এই বদভ্যাস থেকে কিছুটা সরে আসতে পারে।
মডেল রাহামা, ছবি দীপঙ্কর দীপু
