যাত্রার সাতটি রঙে, সাতটি স্তরে, সাঁই যে খেলা করছেন ঘরে—মানবদেহের সাত স্তরে রংধনুর সাত রং, দেহতত্ত্বের এমন ভাবনার ওপর ভর করে পুরো যাত্রা সেজেছে। সেই সাত স্তরের সাতটি রং ছড়িয়ে গেছে পোশাক থেকে শুরু করে গহনা, জুতা, কাপড়, ওড়না, ব্যাগ এবং ঘরবাড়ি সাজসজ্জার জিনিসপত্রসহ গোটা যাত্রাজুড়ে। যাত্রার এই আয়োজনের মূলপরিকল্পনা করেছেন আনুশেহ আনাদিল। ধানমন্ডিতে যাত্রার বিশাল পসরা ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
ধানমন্ডি সাতাশ নম্বর সড়কের মাঝামাঝি। পথ চলতে অনেকেই থমকে দাঁড়ান রাস্তার পাশে। তিন তলা এক ভবন। দু-তলা, তিন-তলায় রাস্তা থেকেই দেখা মেলে বাহারি সব কারুপণ্যের। কোথায় মিটি মিটি আলোয় ল্যাম্পশেড, কোথাও বা মাটির সানকি। এর মাঝেই দেশীয় পোশাক-আশাক, দেশীয় উপাদানেই সেসব তৈরি। ঠিক কোথা থেকে শুরু করা উচিত এমনটা নিয়েই রীতিমতো দ্বিধায় পড়তে হয়। শুরুতেই বলা দরকার, যাত্রা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় গিফট আইটেমের জন্যই। বন্ধু বা প্রিয়জনের পছন্দের অনেক কিছুই পাবেন আপনি এখানে।
২০০৯ সাল থেকে যাত্রার যাত্রা শুরুর পরই দেশীয় ক্রেতাদের কাছে ভালোবাসার জায়গা করে নেয়। সমান জনপ্রিয়তা তার বিদেশিদের কাছেও। হাউজহোল্ড প্রোডাক্ট থেকে শুরু করে, বই, ডায়েরি, ফার্নিচার, লাইট, শো-পিস, এমনকি ক্রোকারিজ সামগ্রীরও বিশাল এই ভাণ্ডার অবাক করে দেয় আগত ক্রেতাদের। মান নিশ্চিত করতে দামটা একটু বেশি মনে হলেও সেটা কখনোই মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে নয়। আর শখের জিনিসে আমরা তো একটু খরচ করতেই পারি! এই যেমন ধরুন, রিকশায় চড়তে ভালোবাসেন খুব, কিন্তু রিকশাটা তো আর ঘরে নিয়ে আসতে পারবেন না! তাই রিকশার সিট দিয়েই আপনার জন্য সোফা বানিয়ে রেখেছে যাত্রা, দামটা হাজার তের পড়বে। যারা গাড়ি ভালোবাসেন, রয়েছে টায়ারের তৈরি মোড়া। একেবারেই গ্রাম্য কাঠের জোড়াতালিতে বাহারি এক চেয়ার টেবিলের সেট পাবেন যাত্রাতে। এর জন্য গুনতে হবে ৩৬০০০ টাকা পর্যন্ত। তার পাশেই রয়েছে অজস্র ল্যাম্পশেড। হাতে তৈরি কাপড়, কাগজ, কাঠ, লোহার দারুণ সমন্বয়ে একেকটি লাইট শিল্পের মান ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। দামটাও ৩০০ থেকে ৪০০০-এর মধ্যেই। শো-পিসের যে কী পরিমাণ সমারোহ যাত্রায় সেটা আলাদা করে বলার অবকাশ নেই। ধামরাই থেকে সংগৃহীত লোহার তৈরি নানা জিনিস রয়েছে, রয়েছে মাটিরও বহুমুখি উপস্থাপন। এগুলোর দামও তারতম্য হয়েছে পণ্যভেদে। ধানমন্ডির শোরুম ম্যানেজার সম্পা তাদের বিশাল পসরা দেখানোর পাশাপাশি ঘুরতে ঘুরতে জানাচ্ছিলেন এসবের ইতিবৃত্ত। তিনতলার পুরোটাতেই ছেলেমেয়ে আর বাচ্চাদের পোশাক। মেয়েদের চিরায়ত পছন্দের শাড়ি থেকে শুরু করে কামিজ, সালোয়ার, ফতুয়া, ওড়না তো রয়েছেই, রয়েছে অনেক অর্নামেন্টসও। কামিজ পাবেন ২০০০ থেকে ৬০০০-এর মধ্যে, ফতুয়া পাবেন ৭২৫ থেকে ২০০০-এর মাঝে, জ্যাকেট রয়ছে ৩০০০ থেকে ৪০০০-এর মধ্যে। স্যান্ডেল রয়েছে ৬০০ থেকে ২০০০-এর মাঝে। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের রকমারী ডিজাইনের টি-শার্ট, ফতুয়া ও স্যান্ডেল পাওয়া যায়। যাত্রার পসরাতে রয়েছে ছেলেদের শার্ট, পায়জামা, ট্রাউজার, রাতের পোশাক। ৫০০ থেকে ২০০০-এর মাঝে মিলবে এই পোশাকগুলো। মেয়েদের রুপার অথবা মাটির গহনা পাবেন ১৫০ থেকে ৪০০০-এর মাঝে। ছেলেদের মানিব্যাগ, বেল্ট পাবেন ৫০০ থেকে ৮০০-র ভেতরে। বাচ্চাদের শার্ট অথবা ফ্রকের প্রতি রয়েছে যাত্রার আলাদা নজর। তাই তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ আয়োজন। বাচ্চাদের জন্য খেলনাও পাবেন, পাবেন মজার মজার ছড়ার বইও। পুতুলও রয়েছে। সবশেষে এটাই বলব, দেশীয় স্বাদের সব কিছু নিয়ে যাত্রার যাত্রা অবিরত থাকলে আমাদের ঐতিহ্যই সমৃদ্ধ হবে।
