মানহানির মামলায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে তার নিজ জিম্মায় জামিন দিয়েছেন আদালত। গত ৯ ফেব্রুয়ারি কাদের সিদ্দিকী রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের এক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে ‘রাজাকার’ বলায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণমূলক সংগঠন ন্যাশনাল এফএফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মজুমদার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পক্ষে মানহানির অভিযোগ এনে কাদের সিদ্দিকীকে আসামি করে এ মামলাটি দায়ের করেন।
আসামি জামিনের কোন আবেদন না করলেও গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ মামলার সমনে গতকাল আদালতে হাজির হয়ে কাদের সিদ্দিকী নিজেই শুনানি করেন। কোন আইনজীবীকে তার পক্ষে নিয়োগ দেননি।
মামলার শুনানিতে কাদের সিদ্দিকী এ মামলায় তাকে পাঠানো সমন ও আরজির বক্তব্য ধরে শুনানি শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘‘মাননীয় আদালত, আমি আপনার সমন পেয়ে আপনার আদালতে আপনাকে এবং আপনার আদালতকে বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক হিসাবে সম্মান জানিয়ে হাজির হয়েছি। আমি আপনার সম্মুখে কিছু নিবেদন পেশ করতে চাই, বাদী জনাব রুহুল আমিন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, তার বয়স ৫৭ বছর। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৩ বছর। ৫৭ থেকে ৪৩ বাদ দিলে বাকি থাকে ১৩ বছর। অর্থাত্, তিনি ছিলেন একজন ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’।’’
ম্যাজিষ্ট্রেট বলেন, ‘এগুলো মামলা সংক্রান্ত কথা নয়, মামলার বিষয়ে কথা বলুন।’ জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘‘যে ধারায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সঠিক হয়নি। বাদী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ১৩ বছর বয়সে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না।’’
এরপর তিনি মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘তিনি দেশের সেরা অর্থনীতিবিদ হতে পারেন, কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন। তিনি ১৯৭১ সালের পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করেছিলেন, সরকারের তোষামোদিতে ব্যস্ত ছিলেন।’’
আদালতকে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি জামিন প্রার্থনা করবো না। আমাকে হয় জেলে পাঠাবেন নতুবা মামলাটি খারিজ করে দেবেন। এ মামলা যদি মহীউদ্দীন খান আলমগীর করতেন তবে কথা ছিল। তাই এ মামলা চলতে পারে না।’
এরপর ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘‘মামলাটি এ পর্যায়ে খারিজ হতে পারে না। এ পর্যায়ে খারিজ করতে আমি পারি না। এটি বিচারিক আদালতের কাজ। সেই আদালতে আপনাকে আসতে হবে। সেদিন আপনি প্রত্যেকটি পয়েন্ট ধরে ধরে বক্তব্য দিতে পারবেন। সেই আদালত মামলা খারিজ করে দিতে পারবে।’’
এরপর আদালত কাদের সিদ্দিকীকে নিজ জিম্মায় জামিন দিতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমি যদি এ সিদ্ধান্ত নিই যে, আপনার কোর্ট থেকে আমি নিজ জিম্মায় জামিনে বের হবো না, তাহলে আমাকে হত্যা করে বের করতে হবে।’’
শুনানির এক পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি বিচারিক আদালতে বদলী করে কাদের সিদ্দিকীকে নিজ জিম্মায় জামিনে যাওয়ার আদেশ দিয়ে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি কাদের সিদ্দিকী রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের এক সম্মেলনে বলেন, ‘রাজাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাইরে রেখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যায় না।’ পরের দিন তা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এ বক্তব্যের জেরে ‘মানহানি হয়েছে’ অভিযোগ করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতিটি পদক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল, তা প্রমাণিত। কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২ কোটি টাকা মানহানি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করেন বাদী।
