রাজশাহীতে ইসলামী ছাত্রশিবির ক্যাডাররা বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে দুই আওয়ামী লীগ নেতার হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। পরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নগরীর বিনোদপুরের তিন জামায়াত কর্মীর বাড়িতে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করে। অপর জামায়াত কর্মীর হাতের রগ ও তার স্ত্রীর হাতের চারটি আঙ্গুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া নগরীর লক্ষ্মীপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং নিউ-মার্কেট এলাকায় ইসলামী ব্যাংকে ভাঙচুর হয়েছে। আহতদের মধ্যে নগরীর ২৮নং (দক্ষিণ) ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যুবলীগ কর্মী ও স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মাইনুল ইসলাম ও ৩০নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াত কর্মী মোক্তার আলী ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমকে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৩৫-৪০ ছাত্রশিবির ক্যাডার শহিদের বিনোদপুর বাজারের বাসায় হামলা চালায়। তখন শহিদ, যুবলীগ কর্মী মাইনুল ইসলাম ও রুহুল আমিন বাসার অতিথি কক্ষে সাংগঠনিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা শহিদুল ও মাইনুলকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। এসময় শহিদুলের একটি পায়ের রগ এবং মাইনুলের বাম হাতের রগ কেটে দেয়া হয়। যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন তাদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এরপর শহিদুলের অপর পায়ের রগ কাটা এবং মাইনুলকে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। তাদের চিত্কারে লোকজন এগিয়ে আসলে শিবিরের ক্যাডাররা পালিয়ে যায়।
রাত ৩টার দিকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ কর্মীরা নগরীর মির্জাপুরে জামায়াত কর্মী মোক্তার আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ছাত্রশিবির কর্মী মোক্তার আলীর ৫ ছেলেকে বাড়িতে না পেয়ে মোক্তার আলী ও তার স্ত্রী আয়শা বেগমকে কুপিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আয়েশার বাম হাতের চারটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয় এবং মোক্তার আলীর বাম পায়ের দুইটি রগ কেটে যায়। একই সময়ে তারা এলাকার জামায়াত নেতা ওমর আলী এবং হান্নানের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওমর আলীর বাড়ির আংশিক এবং হান্নানের বাড়ির তিন ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়েছে।
অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আরেক গ্রুপ মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে হামলার পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে হাসপাতাল ভবনের নীচ তলার ‘রয়েল ফার্মেসি’র সমস্ত ওষুধ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়াও একই গ্রুপ মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিবির কার্যালয় থেকে মুখোশ উদ্ধার
সোমবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় শিবিরের কার্যালয় ‘মহানন্দা ছাত্রাবাস’ থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, অর্ধশত মুখোশ, জিমনেসিয়ামের যন্ত্রপাতি, সাংগঠনিক পরিকল্পনার নথি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের তালিকা, চাঁদা আদায়ের রসিদ ও কম্পিউটারসহ বেশ কিছু জিনিস জব্দের পর কার্যালয়টি সিলগালা করে দিয়েছে। তবে অভিযানের আগেই ছাত্রশিবিবের নেতা-কর্মীরা পালিয়ে যায়।
আরএমপির মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মজিদ বলেন, এসব ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
আরএমপির কমিশনার এসএম মনির-উজ-জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
